পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। কিন্তু বন্ধুর মৃত্যুর খবর পরিবারকে না জানিয়ে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে তার চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। এমনকি মুক্তিপণ হিসেবে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নিহত সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৪) চট্টগ্রামের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয় শান। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে চার বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে।
পরদিন ১৬ আগস্ট সকালে শানের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে জানানো হয়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পেতে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। তবে এরপরও শানকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা হালিশহর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে মামলা করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শানের সঙ্গে থাকা চার বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ১৫ আগস্ট দুপুরে সবাই মিলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যায়। সেখানে সাগরে গোসল করতে নামলে স্রোতের টানে শান ভেসে যায়। পরে ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।
তবে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে আটক চারজন। তাদের দাবি, শানের মৃত্যুর পর ভয়ে তারা বিষয়টি গোপন করেছিল।
এদিকে তদন্তের এক পর্যায়ে হালিশহর থানা-পুলিশ পতেঙ্গা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
খবর পেয়ে শানের পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ শানের।
হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন বলেন, শানের বন্ধুরা জানিয়েছে, ভয়েই তারা ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত আটক চারজনকে অপহরণ ও অর্থ আদায়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।