ফেসবুক লাইভে পুলিশকে হুমকি বিএনপি নেতার

পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান বলি ফারুক। পরে ফের ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহানির হুমকি দেন তিনি।

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুক লাইভে এসে মডেল থানার ওসিসহ পুলিশ প্রশাসনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোশারফ হোসেন বলি ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির প্রায় ১৫ মিনিটের লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বলি ফারুক উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আঊরারখিল গ্রামের কাজিরহাটসংলগ্ন বলী বাড়ির আবুল কালামের ছেলে।

লাইভে বলি ফারুক পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, স্বৈরাচারের দোসর প্রশাসনকে তিনি আর সম্মান দেবেন না। কাজিরহাট বাজারের বলী বাড়ির সড়কে পুলিশকে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও বলেন।

দীর্ঘ ওই ভিডিওতে তিনি দলের হয়ে বিভিন্ন সময় কাজ করার দাবি করেন। ঢাকায় দলের কোন কোন নেতার উপকার করেছেন, জেল খেটেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন- এসব বিষয়ও তুলে ধরেন। পাশাপাশি পুলিশ তাকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতাও চান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বলি ফারুকের বিএনপিতে কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় ফিরে নিজেকে ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত দাবি করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। গত বছর সোনাগাজী বাজারের ভাই ভাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায়ও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানোর পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে হুমকি দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এদিকে, লাইভের পর সোমবার সন্ধ্যায় সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশের একটি দল বলি ফারুককে আটক করতে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর বলি ফারুক আবারও ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এত নির্যাতনের শিকার হননি বলে দাবি করেন। ১৮ বছর ধরে কষ্ট করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার আর কেউ নেই। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার ওপর অত্যাচার বন্ধ না হলে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বলি ফারুকের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ আলম ভূঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলি ফারুকের বিষয়টি জানা নেই বলে জানান। চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় আছেন জানিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, বলি ফারুকের বক্তব্য পুলিশের নজরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তিনি লাইভে এসে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত