অ্যাপসের মাধ্যমে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি গাইবান্ধার কৃষকরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কিছু কমেছে। এ কারণে আগামি ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহে সরকার নির্ধারিত সময় থাকলেও ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে।
 
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবছর কৃষকরা ঘরে বসেই অনলাইনে এবং মোবাইলে অ্যাপসের মাধ্যমে ধান বিক্রির আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে লটারি করে কৃষকদের তালিকা ভেরি করা হয়। এই তালিকাভুক্ত কৃষকই সরকারি বুদ্ধামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। ফলে এ বছর ধান ক্রয়ে স্বচ্ছতা এসেছে। প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রি সুযোগ পেয়েছেন। 
 
সূত্রটি আরও জানায়, জেলায় এবছর বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯  হাজার ৫৬৩ টন। গত ৯  আগষ্ট পযর্ন্ত ১৪ হাজার ৩৯৬ টন ধান কেনা হয়েছে। 
 
সূত্র জানায়, জেলায় ১১টি খাদ্য গুদামে ধান ও চালের ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার টন। বর্তমানে মজুদ আছে ৩৯ হাজার টন।
 
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবছর জেলায় বোরো ধানের চাষ হয় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর। বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত থাকে শুধু বোরো ধান ৯৭ হাজার ৯২৩ টন। 
 
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান (৪৫) বলেন, ‘হামরাঘরে কিরসোক মানুস। সোংসারোত কারো চাকরি নাই, ব্যবসাও নাই। ধান চাউল বেচি দায়দেনা মিটাই। এবারকা অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারি গুদামে তিন টন ধান বিক্রি করচি। তাদের মত অন্তত ২৫ জন কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরে আনন্দের কথা জানালেন।
 
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিমন মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ৯৫০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। এবার প্রতিমন ধানের সরকারি মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কিন্তু সরকারি মূল্যে ন্যায্য মূল্য পেয়েছে কৃষকরা। 
 
ধান দিতে পেরে খুশি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামের কৃষক মাজেদুল ইসলাম (২৯)। তিনি বলেক বলেন, এ বছর ৭৫ মন ধান সহজেই দিতে পেরেছি কোন ঝামেলা ছাড়া। একই উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাসান আলী (৪০) বলেন, সরকারি রেটেই এবার ধান দিতে পেরেছি। ৭৫ মন ধান বোরো ধান সরকারি গুদামে ন্যায্যমুলে দিয়েছি। 
 
সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম শাহিদ হাসান বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক তার ধান সহজে সরকারি গুদামে বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন। এতে সরকার নির্ধারিত মূল্য পেয়েছেন কৃষকরা। ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষকরা খুশি হয়েছেন। 
 
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক কর্মকর্তা ইশকে আব্দুল্লাহ বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের এই কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ধান চাষে আরও আগ্রহ বাড়বে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। 
 
 

এসব বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, এবছর প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি সুযোগ পেয়েছেন। অ্যাপসের মাধ্যমে ধান বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় দালালদের দৌরাত্ব ছিল না। এতে কৃষকরা খুশি। ফলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত