ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে চাকরি হারালেন ফিফার কর্মকর্তা 

ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের এক ওলটপালট ঘটে গেল। বিশ্ব ফুটবল সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক নীতির খোলাখুলি সমালোচনা করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চাকরি হারাতে হলো ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) কেভিন লামোরকে।

গত মাসে ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার ও প্রতিযোগিতাগুলোর অংশবিশেষ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনা সামনে আসার পরেই ফুঁসে উঠেছিল ফিফার ভেতরের অংশ। লামোর সেই সময় এই উদ্যোগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছিলেন, এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘এক ব্যক্তির প্রকল্প’।

সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ এক মূল্যায়নে এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে লামোর আরও অভিযোগ করেছিলেন যে, এই বিষয়ে ফিফার নিজস্ব প্রশাসনকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বা ‘প্রতারিত’ করা হয়েছিল। সেই সময়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমাদের মিশন শত শত আবেগপ্রবণ, নিবেদিতপ্রাণ ও অনুকরণীয় ফিফা কর্মীর মিশন হলো ফুটবলকে সেবা দেওয়া। একজন প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই মানুষকে একত্রিত করতে হবে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং অনুপ্রাণিত করতে হবে। কিন্তু আজ আমরা ঠিক এর বিপরীতটাই দেখছি।’

 নিজের সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে গিয়ে চাকরি হারানোর ঝুঁকি নিয়েও তার বিন্দুমাত্র আক্ষেপ ছিল না জানিয়ে তিনি তখন যোগ করেছিলেন, ‘যদি এর অর্থ আমার চাকরি চলে যাওয়া হয়, তবে তাই হোক। আমি তা বুঝতে পারব এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাব। অন্তত আজ রাতে আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’ 

অবশেষে সোমবার ফিফা কতৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিদায়ের কথা নিশ্চিত করে। ফিফার এক মুখপাত্র সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, ‘ফিফা নিশ্চিত করছে যে ফিফা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কেভিন লামোরের মধ্যকার কাজের সম্পর্ক ১৭ আগস্ট ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। ফিফা কেভিনকে তার দুই বছরের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানায় এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে শুভকামনা জানায়।’ 

এদিকে ফিফা সচিব সাধারণ ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম সোমবার সন্ধ্যায় কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে এবং ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ‘সাম্প্রতিক আলোচনার পর, ফিফা এবং আমাদের চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামোর আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যত্নশীল বিবেচনা এবং কেভিনের প্রতি ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিক থেকে গভীর শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তবে সভাপতি ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনাকারী এই শীর্ষ কর্মকর্তার আকস্মিক বিদায় ফুটবলের অন্দরমহলে বড় ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অস্বস্তির আবহ তৈরি করেছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।