আদিবাসী নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ ৪৪ নাগরিকের 

 
দেশে ‘আদিবাসী’ জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অনভিপ্রেত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, গত ১১ আগস্ট ঢাকার এক গোলটেবিল বৈঠকে দেওয়া দুই মন্ত্রীদের এই বক্তব্য আদিবাসীদের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকারকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মন্ত্রীরা যে দাবি করেছেন—জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র (ইউএনডিআরআইপি) বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুস্বাক্ষর না করায় বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই মন্ত্রীদের বক্তব্য সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আইএলও কনভেনশন ১০৭ অনুসমর্থন করেছে, যা আইনত বাধ্যতামূলক। এছাড়া রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং আয়কর আইন ২০২৩-সহ দেশের একাধিক আইনে স্পষ্টত ‘আদিবাসী’ শব্দটির উল্লেখ ও তাদের অধিকার সুরক্ষার বিধান রয়েছে।

তারা আরও বলেন, ‘আদিবাসী পরিচয়ের স্বীকৃতি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়; বরং তা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। মন্ত্রীদের দেওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।’ তাই জনমনে সৃষ্ট সংশয় কাটাতে অনতিবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, খুশী কবির, নারীপক্ষের শিরীন পারভিন হক, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের রাশেদা কে চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং লেখক-সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ ৪৪ জন নাগরিক।