‘স্বাধীন দেশেও আদিবাসীরা আত্মপরিচয় সংকটে ও বৈষম্যের শিকার’

‘দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। উন্নয়নের নামে ভূমি দখল ও উচ্ছেদ বন্ধ করে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী আজও সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন আদিবাসী নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা এমন কথা বলেন। দিবসটি পালনে সারাদেশ থেকে আদিবাসী নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাকে শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করেন। পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। উন্নয়নের নামে ভূমি দখল ও উচ্ছেদ বন্ধ করে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার বলেন, আদিবাসীরা আজও নানা বৈষম্যের মুখোমুখি। তিনি পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থনের দাবি জানান।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছরেও পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি পাহাড়ে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

এ ছাড়া মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, লেখক ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা আদিবাসীদের বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সভাপতির পক্ষে পাঠ করা বক্তব্যে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে— আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারসহ আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা অন্যতম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত