গাজীপুরের শ্রীপুরে বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তিকে কৌশলে হানিট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণসহ বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ থাকা একটি চক্রকে লোকজন আটক করেন। বিশেষ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে তরুণদের ডেকে এনে ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে এই চক্র।
এমনি একটি চক্রের নারীসহ চার সদস্যকে এলাকাবাসি আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় আকন্দ টেক্সটাইল মিলস সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের পুরুষদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলে। পরে কৌশলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করতে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হত। সেই দাবিকৃত টাকা না দিলে সামাজিকভাবে হেয় করার হুঁমকি দেওয়া শুরু করে সেই চক্র। তারা সবার কাছে হানিট্যাপে নামে পরিচিত।
আটকৃতরা হলে মুক্তা আক্তার (১৯) আপন মিয়া (২২) ও সাকিব হাসান (২৫)। তবে অন্য নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, লোকজন এ সময় ওই বাড়ির মালিক খোকন মিয়াকেও আটক করে পুলিশে দেয়। সে ওই চক্রের সদস্য। চক্রটি খোকনের বাড়িতে কৌশলে লোকজন এনে হানিট্র্যাপে ফেলে। খোকন তার রুম ভাড়া দিয়েছে ওই চক্রের সদস্যদের কাছে। সেও অনৈতিক সুবিধা নেয়। আজ লোকজন টের পেলে তাদের আটক করে পুলিশে সোর্পাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আমির হামজা জানান, মঙ্গলবার টেপিরবাড়ি এলাকার আকন্দ পোশাক কারখানা সংলগ্ন নির্জন একটি বাড়িতে (খোকনের বাড়ি) কয়েক জনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে আসে। পরে লোকজন একত্র হয়ে সেখানে গিয়ে নারীসহ কয়েকজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ আহাম্মেদ বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করেছে এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
হানিট্যাপে শিকার দরগাচালা গ্রামের বাসিন্দা নাসির আহম্মেদ জানান, দুইদিন আগে তাকে বিন্দাবন এলাকার নির্জন রাস্তা থেকে জোর করে কজন মিলে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে সেখানে থাকা নারীদের সাথে ছবি তুলে। পরে সে ছবি ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সে চক্রটি। পরে সন্ধ্যায় ছাড়লে পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, লোকজন অভিযুক্তদের আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে জনতার হাতে আটকৃতদের পুলিশ তাদের হেফাজতে নেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।