আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে মানুষের হৃদয়

মানুষের হৃদয় বড়ই বিচিত্র। কখনো সেখানে ইমানের আলো জ্বলে ওঠে, আবার কখনো অজান্তেই অন্ধকার নেমে আসে। মানুষ অনেক কিছু চায়, অনেক সিদ্ধান্ত নেয়, অনেক পরিকল্পনা করে। কিন্তু তার হৃদয়ের গতিপথও যে মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, কোরআনের একটি আয়াত আমাদের সেই গভীর সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন।’ (সুরা আনফাল ৮) তাফসিরে এ বাক্যের বিভিন্ন অর্থের ব্যাপারে বলা হয়েছে।

এক. এর অর্থ হলো মহান আল্লাহ বান্দার অতি সন্নিকটে। প্রতিটি মানুষ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যখনই তিনি কোনো বান্দাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করতে চান, তখন তিনি তার অন্তর ও পাপের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করে দেন। আবার যখন কারও ভাগ্যে অমঙ্গল থাকে, তখন তার অন্তর ও সৎকর্মের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। সে কারণেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময় এই দোয়া করতেন, ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন। (জামে তিরমিজি, ইবনে কাসির)

দুই. ইবনে অব্বাস (রা.) বলেন, এর অর্থ হলো মহান আল্লাহ কাফেরের ইমান ও মুমিনের কুফরির মধ্যে অন্তরায় হয়ে যান। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে কাসির)

তিন. আয়াতটি যেহেতু বদর যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই এর অর্থ হবে, জেনে রাখো, আল্লাহ তার নেক বান্দাদের ভাগ্যকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করেন। আর কাফেরদের প্রশান্ত অন্তরে অশান্তি ও ভয়ে পরিবর্তন করেন। আবার তিনি ইচ্ছে করলে মুসলিমদের নিরাপদ অবস্থাকে ভীত অবস্থায় রূপান্তর করতে পারেন। (ফাতহুল কাদির)

চার. মহান আল্লাহ মানুষের হৃদয়ের খুবই কাছাকাছি। তারই উপমা এখানে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, তিনি মানুষের মনের গোপন কথাও জানেন, তার কাছে কোনো জিনিসই গোপন নয়। ইমাম ইবনে জারির (রহ.)-এর মতে এর অর্থ হলো, আল্লাহ যখন চান তখন মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যে অন্তরায় হয়ে যান। মানুষ তার ইচ্ছা ব্যতিরেকে কিছুই পেতে পারে না।

পাঁচ. কেউ কেউ এটাকে বদরের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেছেন, মুসলিমরা শত্রুদের সংখ্যাধিক্যে ভীত ছিলেন। মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে অন্তরায় হয়ে ভয়কে অভয়ে বদলে দেন। ইমাম শাওকানি বলেন, আয়াতের উক্ত সব অর্থই হতে পারে। (ফাতহুল কাদির)

লেখক : ইসলামি গবেষক