এশিয়ান গেমসের দল ও কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। একদিকে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), অন্যদিকে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের বর্তমান কর্মকর্তারা। এ নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকেও দেখা গেছে তীব্র উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংকট সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এশিয়ান গেমসের জন্য অধিকাংশ ফেডারেশন থেকে এমন কিছু কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয়েছে, যারা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের কমিটিতে নেই। এ নিয়েই মূল বিরোধ। গতকালের সভা শেষে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘গত ২০ বছর জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি আমরা, অথচ এখন তার সুবিধা ভোগ করছেন অন্যরা। আমাদের জন্যই বিওএ, তাই আমাদের স্বার্থরক্ষা করতে হবে। সভায় আমরা সেটাই বলেছি।’
সভায় আলী ইমাম তপন দাবি করেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা প্রতিকূলতার কারণে দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে ছিলেন তিনি ও তার মতো অনেক কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার একাধিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে এলেও বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, এশিয়ান গেমসের জন্য নতুন করে ‘নিউ এন্ট্রি’ চাওয়া হয়েছে। তবে বিওএ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তারা। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আগের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটির কর্মকর্তাদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা সরকারের সহযোগিতা চান। আলী ইমাম তপন বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা বলছেন বিষয়টি তাদের হাতে নেই। এখন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চাইছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কর্মকর্তারাই এশিয়ান গেমসে যাবেন।’ বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংকট সমন্বয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। এছাড়া তপন বলেন, ‘যদি নাম পরিবর্তন করা না হয়, তাহলে আমরা খেলোয়াড়দের বাদে কোনো কর্মকর্তাকেই এশিয়ান গেমসে যাওয়ার জন্য সরকারি আদেশ (জিও) পেতে কোনো প্রকার সহযোগিতা করব না। কারণ সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর প্যাডে আবেদন দরকার। আমরা সেটা দেব না।’
সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবারও আলোচনা হবে। এশিয়ান গেমসে কারা কর্মকর্তা হিসেবে যাবেন এবং বিওএ ও ফেডারেশনগুলোর মধ্যকার বিরোধ কীভাবে মিটবে এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রীড়াঙ্গন।