২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে দেশের পাঁচটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ বন্দি বিভিন্ন সময়ে ফেরত এসেছেন। (কেউ ফেরত এসেছে, কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে)। এখনো পলাতক ৬৯০ বন্দি। তাদের মধ্যে ১৬৬ বন্দির কোনো তথ্য নেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। গতকাল মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
আইজি প্রিজন বলেন, ‘নরসিংদী কারাগার ভেঙে ওই সময় ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ বন্দি পালিয়েছিল। এর মধ্যে ১৬৬ বন্দির ডাটা আমরা পাচ্ছি না। তাদের তথ্য আদালত থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। ৯ জঙ্গির মধ্যে ছয়জন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে জুয়েল নামে একজন জামিনে বের হয়। তাকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানতে পেরেছি। বাকি দুজন এখনো পলাতক।’
জঙ্গিদের একত্রে কারাগারে রাখার বিষয়টি অতীতে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় বন্দি ব্যবস্থাপনার কারণে হয়তো জঙ্গিদের আলাদা করে রাখা হয়নি। হয়তো একই ভবনে থাকার কারণে কোনো না কোনোভাবে এক জঙ্গি আরেক জঙ্গির সংস্পর্শে এসেছে, এটা গাফলতি ছিল। তবে বর্তমানে বন্দি ব্যবস্থাপনা অনেক স্মার্ট ও ডাটাবেজ। এখন এসব বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে। তবে পলাতক জঙ্গিরা দুচিন্তার বিষয় বলেও জানান তিনি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কারাগারে মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, শতভাগ নিশ্চিত করতে পারছি না যে তারা (মন্ত্রী ও এমপিরা) মোবাইলে কথা বলছেন না। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত যারা, তাদেরকে ছাড় দিচ্ছি না। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিদের কারাগারে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। গত এক বছরে প্রায় ৩ হাজার মোবাইল ফোন সেট জব্দ করেছি। এখন এর প্রবণতা কমে এসেছে। এ ছাড়া অনেকেই আছেন যাদেরকে আমরা স্পেশাল জোনে রেখেছি, যেখানে জ্যামার রয়েছে। মোবাইল ফোন কারাগারে নিয়ে গেলেও জ্যামারের কারণে ব্যবহার করতে পারছেন না তারা।
নির্যাতনের কারণে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকে মৃত্যুবরণ করছেনÑ পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ১৮৬ জন এবং চলতি বছরের সাত মাসে ১২২ বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হয়, মৃত্যুর কারণ জানা হয়। কারা অভ্যন্তরে নির্যাতনে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ যেটা পেয়েছি, অনেক সময় কোনো বন্দি অসুস্থ হয়ে গেলে কারা অভ্যন্তরে থাকা চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা ওই বন্দিকে বাইরের হাসপাতালে প্রেরণ করতে দেরি করেন। এমন ঘটনায়ও আমরা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কারা চিকিৎসকের পরামর্শে সাত মাসে ৫৬ হাজার বন্দিকে বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কারাগারগুলোতে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের সংকট রয়েছে। শিগগির ৫৫ জন নার্স যোগদান করবেন।
বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, এই বন্দিদের মধ্যে ১৭০ জন রয়েছেন, যাদের সাজা শেষ হয়ে গেছে, দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। অ্যাম্বাসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। দুই বছরে বিদেশি প্রায় ১৭টি মৃতদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বিদেশিদের মরদেহ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে তিনটি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। যদি কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না আসে, তবে ডিএনএ সংরক্ষণ করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্দিদের মাদক সরবরাহ করা, মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২ বছরে ২১ কারারক্ষীকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত, ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৩০৩ জনকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করার তথ্য জানান তিনি। বন্দিদের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, খাবারের মান ঠিক আছে।