গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের জামাইয়ের লাঠির আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মেয়ের সংসারের ঝামেলা মিটাতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন ওই ব্যক্তি। পরে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে পৌরশহরের কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের দারোগার চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম (শ্বশুর) হাফিজ উদ্দীন (৫৫)। তিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের সাহাব উদ্দীনের ছেলে।
অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফিরোজ মিয়া (২৫)। সেও নেত্রকোনার কলমাকান্দার উপজেলার রংছাতি গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে। সে হাফিজ উদ্দীনের মেয়ে সুরাইয়ার আক্তারের জামাই।
প্রতিবেশীরা জানান, ফিরোজ মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে দারোগার চালা এলাকার মনির মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। কয়েকদিন ধরেই ফিরোজের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ লেগেই রয়েছে। এমন অবস্থায় তার স্ত্রী পাশের আরেকটি এলাকায় ভাড়া থাকা বাবাকে খবর দেন। মঙ্গলবার রাতে ফিরোজের শ্বশুর মেয়ের বাসাতে আসেন। ফের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন ফিরোজ। এ সময় ফিরোজের শ্বশুর হাফিজ উদ্দীন কথা বললে ক্ষিপ্ত হয় মেয়ের জামাই ফিরোজ। তাদের দুজনের মধ্য কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মেয়ের জামাই ফিরোজ রেগে হাতের কাছে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে শ্বশুরের মাথায় আঘাত করেন। এতে শ্বশুর হাফিজ উদ্দীন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় ভাড়াটিয়া আলম ফরাজি জানান, আহত হাফিজ উদ্দীনকে আহত অবস্থায় আশপাশের ভাড়াটিয়ারা উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। পরে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাফিজ উদ্দীনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন ঘটনার পর থেকে ঘাতক ফিরোজ মিয়া পলাতক আছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান- রাতে মৃত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিলো। পরে বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ মরদেহ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।