শ্রীপুরে অগ্নিদগ্ধ সেই কিশোরের মৃত্যু, যা জানা গেল

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাইরে থেকে তালাবন্ধ একটি ঘর থেকে দেলোয়ার হোসেন (১৮) নামে অগ্নিদগ্ধ এক কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীনকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাঁটিয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা রাতে অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় গুরুতর অবস্থা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে নিলে অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসক দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রেফার করেন। 

রবিবার (৪ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই কিশোর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

কিশোর দেলোয়ার হোসেন জামালপুরের বকসীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের মোহাম্মদ বুদু  মিয়ার ছেলে। বাবার সাথে সাঁটিয়া বাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন দেলোয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- স্থানীয় বাসিন্দা হুরমত আলী এবং ফাইজুদ্দীনে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদীন ধরে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ দুই পরিবারে প্রায় সময় উত্তেজনা আর মারমুখী অবস্থা সৃষ্টি হয় জমি নিয়ে। শনিবার রাতে কোনো এক সময় বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা একটি ভাঙাচোরা ঘরে দেলোয়ার হোসেনকে রেখে আগুন লাগানো হয়।

তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন কি করে এমন জরাজীর্ণ  ঘরে  সেই ছেলে গেলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার সেই ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ছিল কিশোর দেলোয়ার। এটা কোনো গভীর ষড়যন্ত্র কি না তা তদন্ত করে বের করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এখনো এ ঘটনার ধোঁয়াশা কাটছে না। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার দাবি করছি।

কিশোরের বাবা মোহাম্মদ বুদু মিয়া জানান, যে ঘরে আগুনে পুড়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কি ভাবে গেলো বলতে পারবো না। আমার ছেলের শরীর আগুনে পুড়ে ছাই। কোনো রকম প্রাণ নিয়ে হাসপাতালে নিয়েছি। রাত পার হতেই সে মারা গেলো। তিনি দাবি করে বলেন এটা গভীর চক্রান্ত হতে পারে। তবে যারা আমার সন্তানকে পুড়িয়ে মারলো তাদের বিচার চাই। নিরাপরাধ কোনো মানুষ যেন ফেঁসে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। আসল অপরাধীদের প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেশী ইসমাঈল হোসেন জানান  শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জমিতে তোলা অস্থায়ী ঘরে আগুন চোখে পড়লে লোকজন হইচই করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে জড়ো হয়। এ সময় ঘরে কান্না শুনে ঘরের দরজা ভেঙে দেলোয়ারকে দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় তার শরীর ঝলসে ছিল। কি করে সে এ ঘরে আসলো তা বলতে পারেনি সে। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে ডাক্তার দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। রবিবার সকালে দগ্ধ দেলোয়ার মারা যায়। 

জমির মালিক শেখ হুরমত আলী বলেন- জমি নিয়ে চাচাতো ভাই ফাইজুদ্দীনদের সঙ্গে বিরোধ চলছে৷ একটি টিন শেডের ঘর নির্মাণ করে আমরা সে জমি পাহারা দেই। আমি রাত ১০ টার দিকে ওই ঘরে নিয়মিত ঘুমাতে যাই। শনিবার বিকালে দুধ বিক্রি করছিলাম পাশের সাঁটিয়া বাড়ি বাজারে। হঠাৎ করে একজন ফোন করে জানায় আমাদের সে ঘরে আগুন লাগছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি ঘরে আগুন জ্বলছে। ঘর থেকে একজনের ডাক চিৎকার শুনে শতশত মানুষ জড়ো হয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় সে মারাত্মক ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ঘরটি সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। শুধুমাত্র রাতের বেলায় ঘরের তালা খুলে আমি ঘুমাতে যাই। এই ছেলেকে আমি চিনি না। সে কেন এখানে আসছে কি ভাবে আসছে বুঝতে পারছিনা। এ ঘরে কিভাবে আগুন লাগলো তাও বলতে পারবো না। জমি বিরোধের জেরেই এটা কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে তিনি ধারনা করছেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত