নড়াইলে বহুল আলোচিত ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রবিউল সিকদার রবিকে (৩৭) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র ৮ কর্মদিবসের মধ্যে এবং নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের এক মাসের মাথায় ঐতিহাসিক এই রায় এলো।
এ দিন সকাল ৯টার দিকে নড়াইল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামি রবিউলকে আদালতে আনা হয়। আদালত চত্বরে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
রায় ঘোষণার পর জান্নাতুলের বাবা-মা ও স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং রায়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে আদালত প্রাঙ্গণে আসামির কোনো স্বজনকে দেখা যায়নি। রায় শেষে আসামিকে কোর্ট হাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ৫ বছরের শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়াকে তার প্রতিবেশী আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল সিকদার রবি নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারে সন্ধান চালানোর একপর্যায়ে রবিউলের ঘরে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় অচেতন জান্নাতুলকে দেখতে পায় স্বজনরা। তার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল তৈরি করে লাশ মর্গে পাঠায়। ২১ জুলাই ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে শিশুটিকে দাফন করা হয়।
ঘটনার পরদিন ২১ জুলাই সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় জনতা দত্তপাড়া এলাকা থেকে আসামি রবিউলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিনই জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪) করেন।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার কুণ্ডু। তিনি ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত শেষে মাত্র ১১ কর্মদিবসের মাথায় গত ৪ আগস্ট অনলাইনে চার্জশিট দাখিল করেন।
নড়াইলের আমলি আদালত গত ৬ আগস্ট চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং ৯ আগস্ট চার্জ গঠন করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিচারকাজ শুরু করেন। মাত্র ৮ কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিয়ে মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণসহ যাবতীয় বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৯ আগস্ট আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।
মামলায় বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিবুর রহমান (পিপি), অতিরিক্ত পিপি তারিকুজ্জামান লিটু ও ইস্রাফিল খবির রাজু। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আবুল কালাম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইস্রাফিল খবির রাজু এবং জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম যৌথভাবে জানান, তারা রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং তারা চান বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ মৃত্যুদণ্ড যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর হয়।