টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৪

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাঁটতে বের হলে একদল সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ এবং দাইন্যা এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-সদর উপজেলার যোগনী এলাকার লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, দাইন্যা এলাকার রওশন আলীর ছেলে ছানোয়ার হোসেন, চর কাগমারা এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং ছিটকীবাড়ী এলাকার নুর বক্সের ছেলে রুজবেল। এদের মধ্যে সুজন ও ছানোয়ার কারাগারে থাকলেও বাকি আসামিরা পলাতক।

এ মামলায় দাইন্যা এলাকার অমূল্য ঘোষের ছেলে সঞ্জিত ঘোষ নামে অপর একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাঁটতে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটির পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। 

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি পুনরায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। নতুন এ অভিযোগপত্রেও আগের আটজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কাজ শুরু হয়। যাবতীয় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত