সাজেকে পিতাকে হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাইপোর মৃত্যুদণ্ড

গামছা দিয়ে শ্বাসরোধের পর ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, মরদেহ ফেলা হয় নদীতে। মামলায় ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাইপো আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

রাঙামাটির সাজেকে নিজ পিতা শান্তি লাল চাকমাকে হত্যার দায়ে তার ছেলে সোহেল চাকমা ও নিহতের ভাইপো আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার ৯ দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল বলেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে পলাতক রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী।

তিনি বলেন, আদালত শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুজনকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত