সোনারগাঁওয়ে  বিএনপির দুই নেতার সংঘর্ষ আহত-১০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা ও তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দলটির পদধারী দুই নেতার এ দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর ছাড়াও উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

বুধবার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, সোনারগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্পর্কে তাঁরা আপন দুই ভাই। এই বিরোধের জের ধরেই আজ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিলের পক্ষের সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান , দুই ভাই আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিলের বিরোধ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তাঁদের বিরোধের জেরে আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় থানায় মামলাও হয়।

বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও প্রতিপক্ষ আমার লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে ও আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। দুই মাস পর আজ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল জলিল পাল্টা দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ আমার এক অনুসারীকে একা পেয়ে আক্রমণ করে। পরে আমাকেও কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র  সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছেন। একটি পক্ষ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। দলীয় ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।