২০ বছর পর

কুমিল্লার আদালতে ৩ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ এএম

কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্যকে ২০ বছর এবং এক নারী সদস্যকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলা দায়েরের দীর্ঘ ২০ বছর পর এই রায় ঘোষণা করা হলো। বুধবার (১৯ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক শুনানি শেষে এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— নওগাঁর কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, গাজীপুরের শ্রীপুরের চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান এবং তাঁর স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার ‘রৌশন ভিলায়’ অভিযান চালায় র‍্যাব। ঢাকার র‍্যাব সদরদপ্তরে আটক তৎকালীন জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারিসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাব-৭-এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

পাবলিক প্রসিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামীদের বক্তব্য ও জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনা করে এই সাজা দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আসামি খালেদা আক্তার রানীর সাজা কম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর তিনটি সন্তান থাকা, স্বামী কারাগারে অবস্থান করা এবং পূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয়গুলো আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত