তিস্তা নদীর পেটে স্কুল, আমরা এখন কোথায় পড়া-লেখা করবো 

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

প্রতিদিন সকালে আমরা স্কুলে আসি। গতকালও স্কুলে আসছি। এসে দেখি স্কুল নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আমরা সবাই খুবই ভয় পেয়েছি। পরে স্কুল থেকে দৌড় দিয়ে স্কুলের বাহিরে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের চোখের সামনে প্রিয় স্কুল নদীর পানিতে ভেঙে ভেসে যাচ্ছে, তখন খুবই খারাপ লাগছে। এখন আমরা কোথায় লেখা-পড়া করবো। আমাদের আর কোন স্কুল নেই। কেউ কি নেই,আমাদের স্কুলটি রক্ষা করার ? 

স্কুল হারিয়ে এভাবেই কথা গুলো বলছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির মুক্তি আকতার। বিদ্যালয়টি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের  লালচামার গ্রামের চর সিঙিজানি এলাকায়। 

এসময় একই শ্রেনির সুরুজ বলেছে, আমাদের চরে আর কোন স্কুল নেই। অনেক পথ হেঁটে আর ভাঙা কাঠের সেতু পেরিয়ে আমরা স্কুলে আসি। কিন্তু এখন আর স্কুলে আসতে পারবো না। কারণ আমাদের স্কুলটি আর নেই। তিস্তার নদীতে আমাদের স্কুলটি ভেঙে গেছে। 

বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সিঙিজানি ওই চরে ১৯৯২ সালে  ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয়রা। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়।  বিদ্যালয়ে ৯৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৪ জন শিক্ষক। 

গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সিঙিজানি চর। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ দিকে তিস্তা নদী প্রবাহ হচ্ছে। নদীতে প্রচুর ঢেউ। পানি এসে স্কুলের গোড়ায় ধাক্কা দিচ্ছে। পূর্ব-পশ্চিমে দুটি টিন শেড ঘর। স্থাপনার পূর্ব প্রান্ত বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্কুলে আসা শিক্ষার্থীরা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। লোকজন ভীড় করছেন। 

স্থানীয়রা জানা জানায়, চরের শিশুদের জন্য একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বিদ্যালয়টি। দীর্ঘদিন থেকে তিস্তার ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় জন্য কার্যকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসক। কিন্তু যথাসময়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয়রা আরও জানান, চলতি মাসের ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়টি রক্ষায় জন্য আশ্বাস দেন। কিন্তু  তাতেও কোন কাজ হয়নি। আজ নদীতেই চলে যাচ্ছে। এই এলাকায় আর কোন স্কুল নেই। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, অনেক আগেই পরিস্থিতি জানানো হয়। জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও এসে পরিদর্শন করে গেছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ দূরে থেকে দেখছে। অল্প সময়ের মধ্যে অন্যকোন জায়গাতে স্কুলটি চালুর জন্য কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তার দপ্তরের গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে আশেপাশে তেমন ভাঙন ছিল না। গতকাল হঠাৎ ভাঙতে শুরু করে। খবর পাওয়া মাত্র জিও ব্যাগ ফেলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত