জুমার দিনে দরুদ পাঠ

জুমাবার মুমিনের আনন্দের দিন। এ দিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। একজন মুমিন জুমার দিনকে ইবাদত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলেন। এর মধ্যে অন্যতম সুন্দর আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো। (সুরা আহজাব ৫৬) এখানে নবীজির প্রতি মহান আল্লাহর দরুদ পাঠ করার অর্থ হলো, আল্লাহ নবীজির প্রতি অনুগ্রহ করেন।

এ আয়াতে মুমিনদের এ আমলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দরুদ এমন একটি আমল, যার সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ফেরেশতাদের আমল জড়িয়ে আছে।

জুমার দিনে এই আমলের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সর্বোত্তম দিনগুলোর একটি হলো জুমার দিন। সেদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনান আবু দাউদ ১০৪৭)

হাদিসটি জুমার দিনের দরুদের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে। একজন মুমিন যখন দরুদ পাঠ করেন, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পেশ করা হয়। ফলে জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পড়ার বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মুমিনের ভালোবাসার সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর নিজ স্থান থেকে ওঠার আগে ৮০ বার এই দরুদ পাঠ করে তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছর ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। দরুদটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি, ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’ (আফজালুস সালাওয়াত)

কোনো কোনো মুহাদ্দিস এই হাদিসের সনদকে দুর্বল বলেছেন। তবে ফজিলতের আমল হিসেবে শুক্রবার এই দরুদ পাঠে কোনো সমস্যা নেই। মহান আল্লাহ জুমার দিন আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক