নায়করাজকে হারানোর দিন

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আব্দুর রাজ্জাক, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ‘নায়করাজ’ নামে চিরস্মরণীয়, আজ তার প্রয়াণ দিবস। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢালিউডের এই ধ্রুবতারা।

তৎকালীন কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রাজ্জাকের শৈশব কাটে আদরে-আহ্লাদে। তবে ভাগ্যের অন্বেষণে ঢাকায় পাড়ি জমানোর পর জীবন তাকে মুখোমুখি করে এক কঠিন সংগ্রামের। তীব্র প্রতিকূলতা ও একের পর এক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যখন স্বকীয় পরিচয় তৈরির চেষ্টা করছে, তখন বিদেশি ছবির বাজার পেরিয়ে দেশীয় সিনেমাকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অসামান্য।

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের জহুরি চোখেই প্রথম ধরা দিয়েছিলেন রাজ্জাক। ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়নে তাকে নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সালে জহির রায়হানের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বেহুলা’ ছবিতে লক্ষিন্দর চরিত্রে অভিনয় করে বাজিমাৎ করেন তিনি। প্রযোজকের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও পরিচালকের একনিষ্ঠ বিশ্বাসের ফলেই সুযোগ পান এই নবীন অভিনেতা। শুভমুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি ব্যবসায়িক ও সমালোচকÑ উভয় মহলেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ঢালিউড খুঁজে পায় নতুন রাজপুত্রকে।

রোমান্টিক নায়ক হিসেবে রাজ্জাক উপহার দিয়েছেন একের পর এক সুপারহিট ছবি। বিশেষ করে রাজ্জাক-কবরী জুটি ঢাকাই সিনেমাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা আজও দর্শকদের মনে রঙিন হয়ে আছে। সুচন্দা, সুজাতা, ববিতা ও শবনমের পাশাপাশি তার অভিনয়ের সুবাদেই পরবর্তী সময়ে উর্দু ছবির অভিনেত্রী শাবানাও বাংলা চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। তবে শুধু রোমান্টিক ঘরানার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি রাজ্জাক; ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘রংবাজ’ কিংবা ‘বড় ভালো লোক ছিল’-র মতো ভিন্ন ধাঁচের চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার অভিনয়ের বহুমুখী দক্ষতা।

নায়করাজ হিসেবে রুপালি পর্দায় তিনি যা রেখে গেছেন, তা এদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর। ২০১৫ সালে পুত্র বাপ্পারাজের পরিচালনায় ‘কার্তুজ’ ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

প্রয়াণের ৯ বছর আজ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই মহীরুহের প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে চলচিত্র অঙ্গনের সংগঠনগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি। নায়করাজের আত্মার মাগফিরাত কামনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।