বাংলাদেশকে নিয়ে অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভালোভাবেই মনে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজে প্রথম টেস্টে ২০ রানে হেরেছিল অজিরা। তাই এবার নিজেদের মাটিতে ডারউইন টেস্টে হারের পর ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নামার আগে মিরাজ-তাসকিনদের হালকা নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
৯ বছর আগের সেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৭ উইকেটে জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, তাই এবারও তেমন কিছুরই আশা স্বাগতিকদের। তবে এবারের চ্যালেঞ্জটা যে মোটেও সহজ হবে না তা কামিন্সের কথায় স্পষ্ট।
প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ যে কতটা শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামবে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আজ (শুক্রবার) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘২০১৭ সালে আমাদের বিপক্ষে তারা জিতেছিল। ফলে এবারই প্রথমবার জেতেনি। পরে আমরা বাউন্স ব্যাক করেছি। তারা অনেক ভালো দল। এখানে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসবে তারা। এই চ্যালেঞ্জই আমাদের নিতে হবে।’
অতীতের সেই ধাক্কা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে কন্ডিশন ও পিচ বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের কৌশল চূড়ান্ত করেছে অজি টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাচের আগের দিন অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে বাদ দিয়ে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। স্কোয়াডে জেক ওয়েদারল্ডের পরিবর্তে ডাক পাওয়া ওপেনার ম্যাট রেনশকে একাদশে ফিরিয়ে ডারউইন টেস্টের দল থেকে কেবল একটি পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া।
রেনশকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে কামিন্স জানান, ‘সে দারুণ। তাকে আমার বেশ পছন্দ। ৬ টেস্টে হয়ত সেরকম রান পায়নি। তবে শিল্ড ক্রিকেটে সে অনেক ভালো খেলেছে, অনেক রান পেয়েছে। নেটে দারুণ নক করেছে। শিল্ডে অন্য অনেকের চেয়ে ভালো করেছে সে। আমরা তাকে সেরা ছন্দে চাই। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সফরে সে বেশ ভালো করেছে সাদা বলে। রেনশর সেরা ভার্সনে তাকে চাই আমরা।’
মারনাস লাবুশেন বেশ কিছুদিন ধরেই নেই ফর্মে। এতে তাকে নিয়ে বাড়তি চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে? অবশ্য কামিন্স এমন কিছু মানতে নারাজ। কিছুটা সময় দিলেই ফিরবেন ছন্দে। ‘সবার আগে তাকে বোর্ডে রান তুলতে হবে। সে (লাবুশেন) বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের একজন। হাজারের বেশি টেস্ট রান করেছে। আমি বলব গত কয়েক মাসে সে সেন্টার উইকেটে বেশ ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। দারুণ শার্প আছে এখন। বোলারদের চাপেও ফেলছে ভালোভাবে। মারনাস এবং স্টিভ আমার মনে হয় গত কয়েক মাসে ভালোই ফর্মে আছে। তবে তাদের কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষেও আছি আমি।’
দল নির্বাচন নিয়ে কামিন্স আরও যোগ করেন, ‘(আমরা) চার পেসার নাকি একজন স্পিনার খেলানো যায়, তা দেখতে আরও একটি দিন সময় নেওয়ার চেষ্টা করছি। এটি মূলত কন্ডিশনভিত্তিক সিদ্ধান্ত। আপনি যদি মনে করেন প্রথম বা দ্বিতীয় ইনিংসে তুলনামূলক দ্রুত কুইক বোলারদের দিয়ে ১০ উইকেট নেওয়া যাবে এবং চতুর্থ ইনিংসে পিচ বেশি ভাঙবে না, তবে সেটাই বড় সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।’
এছাড়া স্কোয়াডের গভীরতা ও অভিজ্ঞ পেসার স্কট বোল্যান্ডের বেঞ্চে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্কোয়াডে স্কট বোল্যান্ডের মতো মানসম্মত বোলার বেঞ্চে থাকা মানেই এই আলোচনা সব সময়ই সামনে চলে আসে।’
ডারউইনে অজিদের কোনো সেশনেই পাত্তা দেয়নি তানজিদ-হাসানরা। সেই প্রসঙ্গ তাই উঠল ম্যাকাই টেস্টের আগেও। সফরকারীদের এমন দাপুটের পারফরম্যান্স এই ম্যাচেও জানাবে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেটার ছিল (ডারউইন টেস্টে)। দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলেছে। লম্বা সময় ধরে ভালো খেলেছে। এটা আসলে বেশ সহজ কোনো দেশ নয় ব্যাটিংয়ের জন্য। এখানে ফাস্ট বোলাররা ফিরে এসে এসে বল করে যায়। ২০ ওভার করে এক দিনে বল করে যায়, তাদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকানো কঠিন ব্যাপার।’
ডারউইনে সেই হারটা কী বড় বিপর্যয় ছিল নাকি বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে কামিন্স বলেন, ‘দুটোই আসলে। বাংলাদেশ অবশ্যই অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তবে ঘরের মাঠের দল হিসেবে আমাদের আরও ভালো ক্রিকেট খেলার দরকার ছিল যা আমরা করতে পারিনি।’
সিরিজটা ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে অজিদের। এখন বাকি মান বাঁচানোর। সেই ম্যাচ সামনে রেখে স্বাগতিকদের প্রস্তুতি নিয়ে অজি অধিনায়ক বলেন, ‘ভালো কিছু ট্রেনিং সেশন হয়েছে আমাদের। ব্যাটাররা বোলাররা সবাই ভালো ছন্দে আছে। ভালোভাবে এগোচ্ছি আমরা। দারুণ অভিজ্ঞ কিছু ক্রিকেটার আছে দলে, যেখানে দারুণ কিছু টেস্ট পারফরম্যান্সও আছে। এতে ভালো আত্মবিশ্বাসও আছে।’
শান্ত-হাসানদের থামাতে এই ম্যাচে আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ‘একই প্ল্যান। রান করা, ভালো খেলা। নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলা এগুলোই।’
ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন এবং জশ হ্যাজলউড।