আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে বিতর্কে ফেঁসে যাচ্ছে মিসর 

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচের উত্তাপ এখনও কমেনি। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মিসর। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয় রেফারিং ও ফিফা নিয়ে মিসরীয় শিবির থেকে আসা বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য।

আর এর জের ধরেই এবার মিসরের কোচ হোসাম হাসান, সহকারী কোচ ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

মিসরীয় গণমাধ্যম কিংফুট ডটকমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই তিনজনকে নোটিশ পাঠিয়ে আগামী ছয় দিনের মধ্যে লিখিত জবাব ও আইনি ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। মূলত প্রতিযোগিতার সততা, গভর্নিং বডি এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) এক বিবৃতিতে ফিফার শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি জানিয়েছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও। সেখানে ইএফএ বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) কর্তৃক মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং খেলোয়াড় মোস্তফা জিকোর বিরুদ্ধে শুরু করা শাস্তিমূলক কার্যক্রমের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ শেষে তাঁদের দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ৭ জুলাইয়ের সেই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান কোচ হোসাম দাবি করেছিলেন যে বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচ শেষে তার সেই বিস্ফোরক মন্তব্য ছিল, ‘সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক।’

অন্যদিকে, সহকারী কোচ ও দল পরিচালক ইব্রাহিম হাসানও একই সুরে কথা বলেন এবং দাবি করেন যে আর্জেন্টিনার জয় আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। এমনকি মিসরের প্রতি হওয়া আচরণকে তিনি ‘প্রতারণা ও জালিয়াতি’ বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন।

পাশাপাশি ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ তোলেন যে মিসরের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে এবং রেফারি জেনেশুনেই ম্যাচের ফলে প্রভাব ফেলেছেন। টুর্নামেন্টটি ‘আর্জেন্টিনার দিকে চালিত করা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেই ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের সুবাস পাচ্ছিল মিসর। তবে শেষ ১৪ মিনিটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জিকোর একটি গোল ভিএআর চেকে ফাউলের কারণে বাতিল হওয়ায় ক্ষেপে যায় মিসর। এছাড়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করার আগে মোহামেদ সালাহকে ডি-বক্সে ফাউল করা হয়েছে দাবি করে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিল তারা।

ম্যাচ শেষে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ওপর তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়েরা। যদিও পরবর্তীতে ফিফা রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা সব অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে জানান, ভিএআর সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত