জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির নানা অধ্যায় যেন ধরা পড়েছে সময়ের স্থিরচিত্রে। এক আলোকচিত্রে সংবাদপত্র হাতে নজরুল, অন্যটিতে সুরের ভুবনে নিমগ্ন কবির শিল্পীসত্তা; পাশে তরুণ নজরুলের প্রতিকৃতি। ‘সংবাদপত্র হাতে নজরুল’ ও ‘সুর বাহারে সুর সৃষ্টিতে মগ্ন সুরস্রষ্টা নজরুল’—এমন স্মৃতিময় আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে কবির সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংগীতসাধনার বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র ‘অন্তর কথা’ আয়োজন করেছে ‘স্মরণে ও সৃজনে, শ্রদ্ধায় ও শিল্পে কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা গ্যালারিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পরে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা পর্ব। আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে নজরুলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এসব আলোকচিত্রে নজরুলের জীবন, কর্ম, সময়, সংগ্রাম, শিল্প-সাহিত্য ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি ৭-এ চলবে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কবি আলফ্রেড খোকন বলেন, ‘আমরা দেখি নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলে ডাকা হয়। এতে আসলে নজরুলকে খণ্ডিত করা হয়। নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ‘আমি’। এই ‘আমি’র মধ্য দিয়েই নজরুলকে আবিষ্কার করতে হবে। এই আমি কীভাবে এক মহাজাগতিক জায়গায় যান, তিনিই নজরুল। নজরুলকে আমি দেখি বাংলা ভাষা ও সমাজ কাঠামোর বিপ্লবী রূপে। নজরুল ইসলাম আমার কাছে বিপ্লবী কবি। আমার জীবনে এবং কর্মের অনেক জায়গাতেই আদর্শের জায়গায় তাঁকে রাখি।’
নজরুলকে বিস্ময়কর প্রতিভা উল্লেখ করে আলফ্রেড খোকন বলেন, ‘তাঁর মতো এমন প্রতিভা বিশ্বসাহিত্যেও কমই আছে। ফলে নজরুলকে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে পরিচিত করলে তাঁকে ছোটই করা হয়। আমাদের আহ্বান হোক, আমরা যেন খণ্ডিত নজরুল নয়; বরং নজরুলকে আরও বড় পরিসরে বিশ্লেষণ করি।’
কবি ও নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ বলেন, ‘নজরুল বিদ্রোহী কবি, এটা যেমন সত্য। আবার নজরুল বিপ্লবী, এটাও সত্য। ১০০ বছর আগে, এই বছরেই নজরুল ঢাকায় এসেছিলেন। এ বছরই নজরুলকে হারানোর ৫০ বছরও। এরকম নানান কারণে এ বছরে নজরুলকে স্মরণ করা বেশি প্রাসঙ্গিক। সরকার থেকে এ বছর নজরুল বর্ষ পালন করা হচ্ছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাহিত্যিক ও গবেষক এবং অর্থ নিয়ন্ত্রক (সেনাবাহিনী) মো. আরিফুর রহমান। আয়োজক সংগঠন ‘অন্তর কথা’র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক রহিম সুমন বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান, তাঁর বিদ্রোহী চেতনা, মানবতাবাদ, সাম্যবাদী দর্শন এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে উচ্চারিত সাহসী কণ্ঠ আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনায় প্রাসঙ্গিক। নজরুলকে নতুনভাবে পাঠ, উপলব্ধি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।’