জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রিসভায় নতুন চারজন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রীও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় স্যালুট দেয়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করেন।

পরিদর্শন বইয়ে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সব বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।’

তিনি লেখেন, ‘এই পবিত্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ-আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক, যা চিরকাল দেশপ্রেম ও দেশগঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। তাদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহতায়ালা বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন। এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন। আমিন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি উদয়পদ্ম গাছের চারা রোপণ শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সামরিক সচিব জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টের জিওসি উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি মিন্টু রোডের বাসায় ফেরেন।

আজ বঙ্গভবনে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপতি : নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রবিবার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা করবেন।

রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার বঙ্গভবনে ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে তাকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেবে।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব সামলানো মির্জা ফখরুল। সংসদে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা : সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। গতকাল দুপুরে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল মঈন খান। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাচিং প্রু জেরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আগে এই পদে থাকা আফরোজা খানমকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে (লিংকন) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই কোনো প্ল্যান আছে : জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন করপোরেশনকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখানে পরিবর্তন এনেছেন। আমাদের সঙ্গে যিনি (আফরোজা খানম রিতা) ছিলেন, তিনিও একটি মন্ত্রণালয়ে (খাদ্য মন্ত্রণালয়) বহাল হয়েছেন। আমি মনে করি, নিশ্চয়ই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চান যে ডায়নামিক ওয়েতে আমরা কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারি, আমরা যাতে পর্যটনের বিস্তার ঘটাতে পারি।’

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই কোনো প্ল্যান আছে। সমস্ত প্ল্যানই কিন্তু বাংলাদেশের ও জনগণের উন্নতির জন্য। তিনি কীভাবে, কাকে দিয়ে, কোথায় কাজ করালে ভালো হবে সেভাবে চিন্তা করেই আমাদের পদায়ন করেছেন। চ্যালেঞ্জ অনেক রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য যেটি দরকার, তা আমরা করার চেষ্টা করব।’