রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নিজ বসতঘরের ভেতরে ফারুক শেখ (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো দা, আসামিদের ব্যবহৃত পোশাক, মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সামসুল হক।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২২ আগস্ট দুপুর পৌনে ১টা থেকে ২টার মধ্যবর্তী সময়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা এলাকায় ফারুক শেখ নিজ শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে তিনি খুন হন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের পিতা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনার ছায়া তদন্ত ও যৌথ অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রাপ্ত গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করা হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে বারেক নিজেই তার আপন ভাইকে হত্যার পুরো ছক আঁকার কথা অকপটে স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক বিরোধ, মাকে মারধরের ক্ষোভ এবং নিহতের অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের তীব্র লোভ থেকেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারেক শেখ দৌলতদিয়া এলাকার পূর্বপরিচিত দুই ব্যক্তি—আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে ভাড়াটে কিলার হিসেবে চূড়ান্ত করেন। এই হত্যাকাণ্ডের চুক্তি হয়েছিল মাত্র তিন হাজার টাকায়। ছক অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে ভাড়াটে কিলার আলমগীর ও রুবেল বারেকের বাড়িতে পৌঁছালে, বারেক আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন এবং নিজে কৌশলে বাড়ি থেকে সরে যান। এর পরপরই দুই কিলার ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ফারুক শেখকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার বারেক শেখের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মণ্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দেখানো তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি দা, আসামিদের রক্তমাখা গেঞ্জি, প্যান্ট, একটি মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।