প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ আগস্ট নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার ১৯২০ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রায় ৭০ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পর যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা আইনগতভাবে ভোট দেওয়ার সমান অধিকার পান। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণে রাখতেই এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করে। এই দিবসটি শুধু অতীত অর্জন উদযাপনের জন্য পালিত নয় না, বরং কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং রাজনীতি ও নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবেও পালিত হয়। ১৯৭৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ২৬ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নারী সমতা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানাতে ২৬ আগস্টকে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি বছর নারী দিবস হিসেবে পালিত হয় ৮ মার্চ। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ার নারীরা খাদ্য ও শান্তির দাবিতে ঐতিহাসিক আন্দোলন করলে ৮ মার্চ তারিখটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে এই দুই দিবসের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও একই লক্ষ্যে পালিত হয়। আর তা হলো, লৈঙ্গিক সমতা ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা, সমাজে নারীর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।