শিক্ষক সংকটে রাবির ৩৪ বিভাগ

দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৪টিতে একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী ২৫ জনের বেশি। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে—একজন শিক্ষকের বিপরীতে ৫৬ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, দীর্ঘ সময় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকাই এ সংকটের অন্যতম কারণ। রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম জানান, ২০১৮ থেকে প্রায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে বিভাগগুলোর চাহিদা অনুযায়ী শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৩৪ বিভাগে অনুপাত ২৫-এর বেশি

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ ও একাডেমিক মানদণ্ড মূল্যায়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক প্রতিবেদন ও উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। সর্বোচ্চ সহনীয় সীমা ধরা হয় প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।

এই হিসাবে রাবির ৩৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সহনীয় সীমার চেয়েও বেশি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ। সেখানে প্রতি ৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। এরপর ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে ৪৬ জনের জন্য একজন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ৪১ জনের জন্য একজন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪০ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

সংস্কৃত বিভাগে প্রতি ৩৮ জনের জন্য একজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র এবং অর্থনীতি বিভাগে ৩৫ জনের জন্য একজন, আইবিএতে ৩৪ জনের জন্য একজন এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে ৩৩ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

মার্কেটিংয়ে প্রতি ৩২ জনের জন্য একজন, ইতিহাসে ৩১ জনের জন্য একজন এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ইংরেজি বিভাগে ৩০ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। দর্শনে ২৯ জনের জন্য একজন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ২৮ জনের জন্য একজন, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, ইসলামিক স্টাডিজ ও ফাইন্যান্সে ২৭ জনের জন্য একজন এবং আইন ও ফলিত গণিতে ২৬ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

সমাজবিজ্ঞান, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রতি ২৫ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় ২৪ জনের জন্য একজন, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা এবং নৃবিজ্ঞানে ২৩ জনের জন্য একজন, ফারসি ও ভাষা সাহিত্যে ২২ জনের জন্য একজন এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানে ২১ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

বাংলা, প্রাণিবিদ্যা এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগেও প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন।

নিয়োগে গতি, তবু রয়েছে শূন্য পদ

ইউজিসির সর্বশেষ পাঁচটি বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা ধারাবাহিক ছিল না। ৪৬তম প্রতিবেদনে প্রতি ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকলেও ৪৭তম প্রতিবেদনে তা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়ায়। এরপর ৪৮তম প্রতিবেদনে ২৪, ৪৯তম প্রতিবেদনে ২০ এবং সর্বশেষ ৫০তম প্রতিবেদনে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক ছিলেন।

২০২৫ সালে প্রকাশিত ইউজিসির ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ জনের জন্য একজন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে রাবিতে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রাবিতে বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক রয়েছেন। সে হিসাবে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত প্রায় প্রতি ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।

অন্যদিকে, ১৭টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কাম্য সীমার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে প্রতি সাতজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি আটজনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

নাট্যকলায় প্রতি ৯ জনের জন্য একজন, ফার্মেসিতে ১০ জনের জন্য একজন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেসে ১১ জনের জন্য একজন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও পদার্থবিজ্ঞানে ১২ জনের জন্য একজন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৩ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রসায়ন ও ফিশারিজে প্রতি ১৪ জনের জন্য একজন এবং সমাজকর্ম, উদ্ভিদবিজ্ঞান, লোক প্রশাসন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

‘শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় ঘাটতি’

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার বানু বলেন, ‘শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের প্রভাব অনেক বেশি। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যত বেশি হয়, একজন শিক্ষকের পক্ষে পুরো শ্রেণিকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে পাঠটি যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া তত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সব শিক্ষার্থী একইভাবে বা একই গতিতে বিষয় বুঝতে পারে না। কারও দ্রুত বোঝার সক্ষমতা থাকে, আবার কারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কম থাকলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও সমস্যাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি, সে তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও বেশি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাব শিক্ষা থেকে শুরু করে জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষকের সংখ্যার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা খুবই জরুরি।’

ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু রেজা বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার মান ও পাঠদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। অনুপাত ঠিক না থাকলে একজন শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর চাপ বেড়ে যায়। ফলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কার্যকরভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একটি বিভাগে যদি শিক্ষার্থীসংখ্যা বেশি থাকে কিন্তু শিক্ষক কয়েকজন থাকেন, তাহলে প্রত্যেক শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত মোটামুটি মানসম্মত ও আদর্শ পর্যায়ে রয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ক্লাসের শিক্ষার্থীসংখ্যা সাধারণত ৪০ জনের মধ্যে রাখার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন কোটা বিবেচনার পরও প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থীসংখ্যা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৭ জনের মধ্যে থাকে। এ ছাড়া বিভাগটি বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়ায় প্রতি বর্ষে ব্যবহারিক ক্লাস, প্রকল্প ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম রয়েছে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনায় এখানে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতটি মোটামুটি আদর্শ পর্যায়ে রয়েছে।’

অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, ‘তবে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মতো কিছু বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত একেবারেই সন্তোষজনক নয়। আবার কিছু বিভাগে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেসব পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হয়নি। ইংরেজি ও ইতিহাসসহ কয়েকটি বিভাগে এ ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। ফলে এসব বিভাগেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক নেই। অনুমোদিত পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা গেলে অন্তত এসব বিভাগের শিক্ষকসংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।’

সার্বিক বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘রাবিতে দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৮ থেকে প্রায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ অনুপাত আরও বেড়ে গেছে। এমনিতেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কিছুটা বেশি। এর ওপর দীর্ঘ সময় নিয়োগ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে গত ১৮ থেকে ২০ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন বিভিন্ন বিভাগে যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামনে নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা হবে।’

শিক্ষকসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, অনেক বিভাগই শিক্ষকসংকটের কারণে কষ্ট করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাতও ঠিক থাকছে না। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষকসংকটসহ যেসব বিভাগে শূন্য পদ রয়েছে, সেগুলোতে নিয়োগের বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে এসব পদে নিয়োগের জন্য ইউজিসির অনুমোদন প্রয়োজন। বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। তারা তাদের শূন্য পদগুলোর কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।”

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে না পারা অবশ্যই আমাদের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। শিক্ষকসংকট কমিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’