বর্ষার মৌসুমে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন প্রতি বছরের এক বড় উদ্বেগ। এডিস মশাবাহিত এই রোগ সাধারণ জ্বর দিয়ে শুরু হলেও সতর্ক না হলে তা রূপ নিতে পারে প্রাণঘাতী ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ (DHF)-এ। ঢাকার মতো জনবহুল মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়াও এখন সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর মারাত্মক রূপ দেখা যাচ্ছে। তাই সুস্থ থাকতে এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
সাধারণ ডেঙ্গু ও হেমোরেজিক ফিভারের পার্থক্য
সাধারণ ডেঙ্গুতে প্রচন্ড জ্বর, শরীর ব্যথায় চোখ-পিঠ কাবু হয়ে পড়লেও যথাযথ বিশ্রামে তা নিরাময় সম্ভব। তবে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার হলো এই ভাইরাসের একটি জটিল ও বিপজ্জনক রূপ। এতে রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমতে থাকে এবং রক্তনালির প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা রক্তরস (প্লাজমা) বের হয়ে ফুসফুস ও পেটে পানি জমতে শুরু করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে রোগী সংজ্ঞাহীন হওয়া বা শকে চলে যেতে পারে, যাকে বলে ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’।
যেসব বিপদচিহ্ন অবহেলা করবেন না
জ্বর কমার পরপরই (সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায়) হেমোরেজিক ফিভারের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় :
ব্রাশ করার সময় মাড়ি ও নাক থেকে রক্ত পড়া।
ত্বকের নিচে লালচে বা বেগুনি ছোপ ছোপ দাগ ওঠা।
অনবরত বমি হওয়া বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
প্রচন্ড পেট ব্যথা এবং পায়খানার সঙ্গে কালো রক্ত যাওয়া।
অত্যধিক ক্লান্তি, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা।
তাৎক্ষণিক করণীয় ও প্রতিরোধ
জরুরি সতর্কতা : জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক (যেমন : আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিন) সেবন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রচুর তরল গ্রহণ : স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ এবং ফলের রস পান।
লক্ষণ দেখা দিলেই CBC ও NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট করান।
বাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, টব বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমা পানি ৩ দিনের বেশি জমতে দেবেন না।
দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানান।