সমঝোতার পক্ষে পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত অবসানে কূটনীতিকেই সেরা পথ বলে মনে করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকই প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থেকে বেরোনোর সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মনে করেন, দেশের মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এই সমঝোতাই সম্ভব সেরা চুক্তি। পাশাপাশি দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। গতকাল সোমবার তেহরান সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান বলেন, ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। ‘এই চুক্তির এমন একটি ধারাও নেই, যা আত্মসমর্পণের সমান। সর্বোচ্চ নেতা নীতিনির্ধারণ করেন এবং আমরা সেই পথই অনুসরণ করব।’ তবে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তেহরান তার প্রতিপক্ষের সামনে পিছু হটবে না। পাশাপাশি ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির দিকে ইঙ্গিত করে দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকও তুলে ধরেন তিনি। পেজেশকিয়ান জানান, ‘বর্তমান অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। পুঁজি ও অর্থ ঝুঁকির ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমাদের দেশ থেকে এই ঝুঁকি দূর করতে হবে’।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নে কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী নৌ-বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়াতে গতকাল সোমবার তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেই তার এই সফর বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরকালে আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করবেন বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আসিম মুনির একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সফরের লক্ষ্য ইরান ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা এবং অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।

ইরানে বিশাল গ্যাস মজুদের সন্ধান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের মধ্যেই বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে নতুন এ গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত রবিবার ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) বেশি গ্যাস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। পাকনেজাদ বলেন, নতুন এই আবিষ্কার ইরানের জাতীয় হাইড্রোকার্বন মজুদে গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন সম্পদ যুক্ত করেছে। নতুন গ্যাসের মজুদ শনাক্ত ও উন্নয়নে ইরানি কর্র্তৃপক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই আবিষ্কার এসেছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, তা দিয়ে ইরানের বৃহৎ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তিনি নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসকে ‘সুইট গ্যাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ধরনের গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রটি উন্নয়ন ও পরিচালনার খরচও কম হবে বলে জানান তিনি। পাকনেজাদ আরও বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেট রয়েছে। গ্যাসের মজুদের পাশাপাশি এসব কনডেনসেট থেকেও ইরানের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন সম্পদ তৈরি হতে পারে।