অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনে কমিটি গঠিত

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন সম্পর্কিত সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, অর্থসচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন গতকাল সোমবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপন বলা হয় কমিটির কার্যপরিধি হলো, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কর্মপন্থা নির্ধারণ।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করা হলে যেনো আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনোরকমের অসংগতি না সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করতেই সরকার এই বিশেষায়িত কমিটি গঠন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটির কার্যক্রম কার্যকর হয়েছে।

এর আগে, গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রিসভা অর্থবছর গণনায় এই নতুন মেয়াদের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। অর্থবছর হলো সরকারের আর্থিক হিসাবের মেয়াদকাল। এক অর্থবছরে সরকার রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কীভাবে কত ব্যয় করবে, সরকারের আয় কত হবে, তা নিয়ে একটি আর্থিক পরিকল্পনা বা বাজেট প্রস্তুত করতে এই মেয়াদকাল দরকার হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান জুলাই থেকে জুন মাস সময়ের পরিবর্তে নতুন অর্থবছর শুরু হবে এপ্রিলে; শেষ হবে পরবর্তী বছরের মার্চে। নতুন সময়সীমায় যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় (৯) মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ওই অর্থবছর চলবে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত। নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে। 

নতুন মেয়াদের অর্থবছর চালু হলে বদলে যাবে সব হিসাব-নিকাশ। মূলত বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বা এডিপি বাস্তবায়নে অপচয় রোধ করে অর্থনৈতিক কর্মকা-কে আরও গতিশীল করতেই এই নতুন ব্যবস্থা। জিডিপি, কর আদায়, সরকারি আয়-ব্যয় ও দায়-দেনা, বৈদেশিক ঋণের হিসাব, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসানের হিসাব, প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, পেনশন ও অবসরভাতাসহ সরকারি ক্রয় এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের বিল পরিশোধের সময় বদলে যাবে।

বিদ্যমান সময়সীমা অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন এবং শুরু হয় ১ জুলাই। এই সময়ে দেশে বৃষ্টিপাত হয় এবং অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে নানাবিধ উন্নয়নকাজ যেমন সড়ক, সেতু, নালা-নর্দমা খোঁড়াখুঁড়ি বা ভবন নির্মাণের প্রকল্পের কাজ করা কঠিন হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বাড়ে এবং কাজের গুণগতমান ধরে রাখা হয় না। এদিকে, অর্থবছরের শেষ মাসে প্রকল্প শেষ করার তাগিদ থেকে বিলও পরিশোধ করতে হয়। এতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হয়। নতুন মেয়াদকাল অনুযায়ী এপ্রিলে অর্থবছর শুরু হলে ওই মাসে সরকার বাজেট প্রস্তুত করবে এবং শুকনো মৌসুম (গ্রীস্মকাল) থাকতে থাকতেই সকল উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বর্ষায় ওই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।