ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলার বিচারকাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে এবার আদালতের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত মেডিকেল কমিশনের কাছে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে দেখা গেছে তার বড় অংশই আসলে ম্যারাডোনার মৃত বাবার! নাম এক হওয়ার সুবাদে ঘটা এই মারাত্মক ভুলের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে পুরো বিচারকাজ।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এবং বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা একটি চিঠির সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিতে স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানি ‘সুইস মেডিক্যাল’ স্বীকার করেছে যে, ‘তদন্তকারী মেডিকেল কমিশনের কাছে যে পরীক্ষাগুলোর প্রতিবেদন তারা সরবরাহ করেছিল, সেগুলোর নথিপত্র ভুলবশত ‘ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা’র নামে ফাইলভুক্ত করা হয়েছিল, অথচ প্রকৃত অর্থে সেগুলো ছিল তাঁর প্রয়াত বাবা ডিয়েগো সালুস্তিয়ানো ম্যারাডোনার।
ম্যারাডোনার বাবা ডিয়েগো সালুস্তিয়ানো ২০১৫ সালে মারা যান, আর তাঁর পাঁচ বছর পর ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
২০২০ সালের নভেম্বরে বুয়েনস এইরেসের শহরতলী তিগ্রেতে একটি ভাড়া বাসায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর হৃদ্রোগ ও পালমোনারি এডিমাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলার অভিযোগ এনে বর্তমানে তাঁর মেডিকেল টিমের সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার চলছে। এই বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসে ম্যারাডোনার কিডনির স্বাস্থ্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। এক নেফ্রোলজিস্ট আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কথা বললেও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি মূলত ওই ভুল পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই নিজের মূলায়ন ও বিশ্লেষণ তৈরি করেছিলেন।
গত সপ্তাহে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর নজরে এই গড়মিল ধরা পড়ার পর আদালতের কার্যক্রমে এক সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিচারকদের স্বার্থের সংঘাতে প্রথমবার বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর গত এপ্রিলে নতুন করে এই বিচার শুরু হয়েছিল। আগামী বৃহস্পতিবার এই স্থগিতাদেশ কাটিয়ে বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।