ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর নেপথ্যে চিকিৎসকদের চরম অবহেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২০ সালে কিংবদন্তি এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার মৃত্যুর আগে তার শরীরে যে স্পষ্ট বিপদসংকেত বা ‘ওয়ার্নিং সাইন’ ফুটে উঠেছিল, তা চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন বলে আর্জেন্টিনার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।
বুয়েনস আইরেসের উত্তরে সান ইসিদ্রোর আদালতে চলা বহুল আলোচিত এই বিচার প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ নতুন মোড় নিয়েছে।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি আদালতের সামনে তুলে ধরেন মর্মান্তিক সব তথ্য। সার্জারির পর বাড়ি নিয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে এই কিংবদন্তির শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতির কথা উল্লেখ করে ক্যাসিনেলি সরাসরি জানান, চিকিৎসকরা রোগীর বিপদের লক্ষণগুলো আমলে নেননি।
মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ফরেনসিক চিকিৎসক ক্যাসিনেলি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি চিকিৎসকরা এই বিপদসংকেতগুলোকে আমলে নেননি কারণ তাদের চিকিৎসার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’ এছাড়া ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন অংশের শোথ বা ফোলা ভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ দেখতে যায়নি যে ওই ফোলা ভাবটি কিসের ছিল, অথচ এটি জীবননাশের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিল।’
তদন্তে উঠে এসেছে যে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর ফুসফুসে জল জমে যাওয়া (পালমোনারি এডিমা) ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চরম কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়। যদিও অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছেন যে, দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির কারণে তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুই বরণ করেছেন। তবে মেডিকেল বোর্ডের এমন বিস্ফোরক বক্তব্যে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকার প্রয়াণ রহস্যের বিচার প্রক্রিয়া আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মায়ামিতে ফিরছেন মেসি, আজ কি খেলবেন