অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দিনে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই সূত্র ধরে আজ (মঙ্গলবার) স্পোর্টস্টার-এ নিজের কলামে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার জানিয়েছেন, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনার মতো অস্ট্রেলিয়ার এই ট্রাম্পোলিন-বাউন্স পিচ নিয়ে সে দেশের গণমাধ্যম বা মহলে কোনো সমালোচনা বা টু শব্দটিও শোনা যায় না। অথচ ভারতের মাটিতে কোনো ম্যাচ তিন দিনে শেষ হলেই ভারতীয় পিচ বা বিসিসিআইকে নিয়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নানা অজুহাত দাঁড় করানোর সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের সেই কলামে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘ওহ, গ্রাউন্ডসম্যান দুঃখিত, টার্ফ এক্সিকিউটিভ ভুল করেছেন। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর ভরসা করেছিলেন, যেখানে গরম আবহাওয়া বলা হয়েছিল, তাই তিনি কিছুটা বেশি ঘাস রেখে দিয়েছিলেন এবং সেটাই অতিরিক্ত বাউন্স তৈরি করেছে।’
এছাড়া ব্যাটারদের টেকনিকের ঘাটতি রয়েছে বলে যে অজুহাত দেওয়া হয়, সেটির সমালোচনা করে গাভাস্কার আরও লিখেছেন, ‘এই শেষ অজুহাতটি হয়তো কিছুটা মেনে নেওয়া যেত যদি স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা ভালো ব্যাট করত, কিন্তু যখন ঘরের ছেলেরাই একটি রান বা ভালো জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়, তখন সেটি পিচ সম্পর্কে আপনাদের কী বলে?’
অস্ট্রেলিয়ার পিচ তৈরির পেছনের কৌশল নিয়ে গাভাস্কার সরাসরি উল্লেখ করেছেন, ‘ম্যাকাইয়ের পিচ কোনো চমক ছিল না। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশিদের কাছে অস্ট্রেলিয়ানরা অপমানিত হওয়ার পর তারা এমন একটি পিচ তৈরি করবে যা হবে দ্রুতগতির ও বাউন্সি, এটা জানা কথা। এবং অবশ্যই তারা দাবি করবে যে গ্রাউন্ডসম্যান নিজে থেকেই এটি করেছেন এবং টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে শূন্য নির্দেশনা ছিল। তবে আমরা সবাই জানি পর্দার আড়ালে কী ঘটে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে দলগুলোর প্রতি বৈষম্য ও দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস তুলে ধরে ভারতের এই কিংবদন্তি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পায়, কিন্তু এর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর উপযুক্ত মনে করে, তাও আবার তাদের অনিয়মিত টেস্ট ভেন্যুতে। ভারতকেও তাদের ১৯৪৭-৪৮ সালের প্রথম সফরের পর দ্বিতীয় সফরের জন্য ১৯৬৭-৬৮ সাল পর্যন্ত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং এরপর অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পরবর্তী সফরের জন্য আরও ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’
খেলার মাঠের বাইরের এসব পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং উইকেটের চরিত্র নিয়ে কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের কড়া মূল্যায়ন বিশ্ব ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকদের ভাবাতে বাধ্য করবে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুই দিনে ম্যাচ ফুরিয়ে যাওয়া আর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর প্রতি এমন আচরণ টেনে গাভাস্কার যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, তা ক্রিকেট কূটনীতির পুরনো রূপটিকেই আবারও বড় করে তুলে ধরেছে।
‘মারধরের শিকার হয়েছি’, বিস্ফোরক দাবি অনূর্ধ্ব-২০ কোচের