পুলিশ কমিশনারকে সরানো  হলো, মামলা ডিবিতে

রংপুর নগরীতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার ঘটনার তদন্তভার মহানগর কোতোয়ালি থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। অধিকতর ভালো তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বদলে ডিবির মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করবে আলোচিত ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি।

এদিকে আলোচিত এই ঘটনার পর রংপুর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থানে ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশিদকে পদায়ন করা হয়েছে। তবে রংপুর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আব্দুল মাবুদকে কোথায় সংযুক্ত করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট আব্দুল মাবুদকে পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) থেকে পদোন্নতি দিয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে তিনি সেখানে যোগদান করেননি। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আরএমপি কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।

গত সোমবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চন্দ্র চক্রবর্তী নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দ বিভাগের ওসি জিনাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন। পরে পুরনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ার বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিষয়ে ব্রিফ করেন নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে। রংপুর মহানগর উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জিন্নাত আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উনি খুবই বিচক্ষণ। আরও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদন্ত করে যত দ্রুত সম্ভব তিনি চার্জশিট দেবেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জিলা স্কুলে প্রয়াত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্মরণ সভা ও প্রার্থনা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণসহ দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

চাঞ্চল্যকর চার খুনের প্রকৃত রহস্য বের করতে দরকার হলে আলামত পুনঃপরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিবির ওসি জিন্নাত আলী। তিনি বলেন, এই হত্যা মামলায় নতুন মাত্রা যোগ হতে এবং আগামীকালকে আপনারা একটা ভালো খবর পেতে পারেন। মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে আমাকে দায়িত্বভার দিলে তদন্ত হয়তো আরও ভালো হবে। ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। আমিও সেই আশাবাদ নিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছি।  জিন্নাত আলী আরও বলেন, এই হত্যার বিষয়ে সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা সেগুলোকে মাথায় রেখেই তদন্তকাজ শুরু করেছি। এই হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য এবং কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব। সকালে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছি। যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসী সঠিক বিচার পায়।