আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবীর (সা.) জীবনী নিয়ে আলোচনা এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহানবী (সা.) তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মর্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসুল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। মহানবী (সা.)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে মানবজাতি অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায়। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন। তার জীবন ও আদর্শ হয়ে ওঠে মানবতার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষের জীবনে তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অবহেলিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নারী জাতির মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনন্য। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আদর্শ আজও শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের পথ দেখায়।