হাসিনাসহ বিদেশে থাকা সব আসামিকে ফেরত চায় সরকার

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত সব আসামিকে দেশে ফেরত চায় সরকার। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘শুধু শেখ হাসিনা নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, আমরা তাদের সবাইকে দেশে ফেরত চাই।’ এ সময় তিনি গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো নির্মল চর্চার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর সক্রিয় প্রতিক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন।

সরকারের কার্যক্রমের সর্বশেষ আপডেট জানাতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ওই ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সার পরিস্থিতি, গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ২২০ কোটি ডলার ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান : গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ : তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, এটা আমরা জানি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে যদি বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি তার (শখ হাসিনা) জন্য খুব একটা সুখবর হবে না।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি।’

বাংলাদেশ সংবেদনশীল সময় পার করছে : বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের তরফ থেকে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার কোনো মানসিকতা নেই। আমরা এ ধরনের চিন্তা করি না।’ সিলেটে নৌকা বাইচ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল।

সারের সংকট নেই : ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার মজুদ রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুদ ছিল প্রায় ১৩ লাখ টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুদ বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কৃৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।