চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার না করাসহ বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা ‘সম্রাট বাহাদুর’ ও ‘নিহারকলি’ নামের দুটি হাতিকে দেখভালকারীদের জিম্মায় দিয়েছিল বন বিভাগ। তবে জিম্মার শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে মাত্র ১২ দিনের মাথায় হাতি দুটিকে আবার সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে গত সোমবার অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে উদ্ধার করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খোলা ট্রাকে করে গাজীপুর সাফারি পার্কের আনা হয় হাতি দুটিকে। পরে পার্কে রেখে হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সাফারি পার্কের চিকিৎসক ডা. হাতেম সাজ্জাত ও ডা. জুলকারনাইন হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর তাদের আলাদা বেষ্টনীতে রাখা হয়।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই গত সোমবার অভিযান চালিয়ে হাতি নিহারকলিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এবং হাতি সম্রাট বাহাদুরকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগান সংলগ্ন এলাকা থেকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের খোলা ট্রাকে করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়। আনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে খাবার দেওয়া হয়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) তারেক রহমান বলেন, ‘হাতি দুটিকে আনার পর বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর এদের গোসল করিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয়েছে। এদের যতœ বাড়ানো হয়েছে। আশা করি, হাতিগুলো এখানে বেশ আরামে ও নিরাপদে থাকবে।’
গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক (ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানান, উদ্ধার করে হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের পার্কের নির্দিষ্ট নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে। এখন থেকে এগুলো এ সাফারি পার্কেই থাকবে।