ওয়েস্ট লন্ডন ডার্বির প্রিমিয়ার লিগ রোমাঞ্চে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে নতুন যুগ শুরু করলেন চেলসির নতুন স্প্যানিশ কোচ জাবি অ্যালনসো। ক্রাভেন কটেজে হাড্ডাহাড্ডি ও আক্রমণাত্মক এক ম্যাচে ফুলহ্যামকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে ব্লুজরা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের জাতীয় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া জোয়াও পেদ্রোর ইতিহাস গড়া দ্রুততম গোল, কোল পামার ও মরগান রজার্সের চমৎকার রসায়ন এবং ফুলহ্যামের পাল্টা আক্রমণে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
সোমবার রাতে রেফারি বাঁশি বাজানোর পরপরই ইতিহাস রচনা করেন চেলসির নতুন নম্বর নাইন জোয়াও পেদ্রো। মাঝমাঠ থেকে ডেবিউট্যান্ট সেন্টার-ব্যাক ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার বাড়ানো বল পামারের চতুর চিপ পাসে খুঁজে পায় পেদ্রোকে। চোখের পলকে ফুলহ্যাম গোলরক্ষক বার্নার্ড লেনোর মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৩১ সেকেন্ড! প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে এটিই এখন দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড।
তবে দ্রুত গোল খেয়ে দমে যায়নি আলভারো আরবেলোয়ার ফুলহ্যাম। ২৩ মিনিটে চেলসি ডিফেন্সের ভুলে খেলায় সমতা ফেরান ফুলহ্যামের ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি জশ কিং। টিমোথি কাস্টানিয়ের বাড়ানো বল সানচেজের দিকে শট করলে সানচেজ বলটি ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন, আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে ঠেলে দেন জশ কিং।
সমতায় ফেরার পর চেলসি আবার আক্রমণের ধার বাড়ায়। প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে আবারও কোল পামারের বাড়ানো বলে বাঁ-প্রান্ত থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান লাক্রোয়া। বক্সে থাকা মরগান রজার্স দারুণ টাচে চেলসির জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করে ব্লুজদের আবারও লিড (২-১) এনে দেন।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই চেলসির ফ্রন্ট-থ্রি আবার জ্বলে ওঠে। ৪৯ মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর চমৎকার বিল্ড-আপ পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন কোল পামার (৩-১)। মানচেস্টার সিটির একাডেমিতে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা পামার ও রজার্সের বোঝাপড়া পুরো ম্যাচেই ফুলহ্যামের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। তবে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ ফের এক মারাত্মক ভুল করে বসেন। কাস্টানিয়ের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো ক্লিয়ার না করে হাত থেকে ফেলে দিলে সামনেই থাকা গনসালো গার্সিয়া ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। এরপর ফুলহ্যাম ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠলেও চেলসির রক্ষণভাগ কোনোমতে লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
প্রথম ম্যাচেই দল ৩ পয়েন্ট পেলেও প্রতিপক্ষের মাঠে নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি এবং গোলরক্ষক সানচেজের বারবার ভুল স্পষ্টতই ভাবাচ্ছে জাবি অ্যালনসোকে। ম্যাচ শেষে অ্যালনসো সানচেজকে সান্ত্বনা দিলেও গোলের নিচে স্প্যানিশ গোলরক্ষকের অবস্থান নড়বড়ে। অন্যদিকে, পামার ও রজার্সের জুটিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যালনসো বলেন, ‘পামার যখন এই স্বাধীনতা ও গতিশীলতা নিয়ে খেলে, তখন চেলসি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দলে পরিণত হয়। রজার্স ও পেদ্রোর সঙ্গে ওর কেমিস্ট্রি আমাদের নতুন মৌসুমে দারুণ কিছু উপহার দেবে।’