হামজা কি ডার্বিতে!

লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে দলে টানতে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি। তুর্কি আল-শেখ-এর বিনিয়োগ চুক্তি বাতিল হলেও ট্রান্সফার পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। মিডফিল্ড শক্তিশালী করাই এখন ডার্বির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, আর সেই তালিকাতেই শীর্ষে উঠে এসেছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

দ্য টেলিগ্রাফের সাংবাদিক মাইক ম্যাকগ্রা তার এক্স হ্যান্ডলে আজ (২৫ আগস্ট) প্রথম জানান, ইস্ট মিডল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ লেস্টার সিটি থেকে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দলে নিতে দর কষাকষি শুরু করেছে ডার্বি। তবে এই দলবদল কি স্থায়ী চুক্তি নাকি ধারে (লোন) হবেÑ তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলেছেন হামজা চৌধুরী। ডার্বিতে এলে ম্যাক্স জনস্টনের ব্যাকআপ ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন হামজা। ডার্বি কাউন্টি অধিনায়ক লুইস ট্র্যাভিসের সঙ্গে হামজার খেলার স্টাইলে দারুণ মিল রয়েছে। দুজনেই ডিফেন্সের সামনে রক্ষণাত্মক প্রাচীর হিসেবে কাজ করতে ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে পারদর্শী। এ ছাড়া লেস্টারের হয়ে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা থাকায় দলের ড্রেসিংরুমেও তিনি নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আগ্রাসী ট্যাকলিংয়ের কারণে হামজার প্রায়ই ফাউল করা বা কার্ড দেখার প্রবণতা রয়েছে। পাশাপাশি লং পাসিং বা সুযোগ তৈরির দিক থেকে তার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ডার্বির রক্ষণভাগ সুরক্ষায় তিনি অত্যন্ত কার্যকর হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তির শেষ বছরে এসে ডার্বি কাউন্টি তাকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ায় লেস্টার ট্রান্সফার ফি পাওয়ার পাশাপাশি বিশাল বেতন খরচ থেকেও বাঁচবে বলে কথাবার্তা হচ্ছে। তাকে বিক্রি করাকে দুই পক্ষের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন লেস্টার সিটির সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। আগামী গ্রীষ্মে ফ্রিতে ক্লাব ছাড়ার আগেই তার দলবদল নিশ্চিত করা গেলে লেস্টার যেমন অর্থ পাবে, তেমনি ডার্বি কাউন্টিও তাদের মিডফিল্ডের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলা হামজা চৌধুরীর জন্য লেস্টার সিটিতে সাম্প্রতিক ফর্মের ঘাটতির কারণে নতুন কোনো ক্লাবে গিয়ে নতুনভাবে শুরু করাটাই সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। ক্যারিয়ারের এই সময়ে নিয়মিত একাদশে খেলার জন্য এমন নতুন একটি পরিবেশ তার হারিয়ে যাওয়া ফর্ম ফেরাতে সাহায্য করবে।