সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কৃষকদের অগ্রিম সার না কেনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলু ও রবি শস্যের মৌসুম সামনে রেখে কিছু কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি সার কিনছেন। এ কারণে বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অগ্রিম সার কেনার প্রয়োজন নেই।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ, গাছের চারা বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২৪ আগস্ট মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার জন্য তিন সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কোনো ডিলার বাতিল করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, কিছু কৃষক অগ্রিম সার কিনতে যাওয়ায় এবং দুই একজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যেসব ডিলার সার উত্তোলন বা বিতরণে দেরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে, সেসব ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের আশ্বস্ত করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকেরা সার পাবেন। কোন ফসলের জন্য কখন কত সার প্রয়োজন, সে হিসাব সরকারের কাছে রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বেলাল হোসেন, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।