বিভ্রান্ত করার কথা
নজরুল ইসলাম কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ঝলমলে রঙিন পোশাক পরতেন। কেউ তাকে রঙিন পোশাক পরার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, রঙিন পোশাক পরি অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। নজরুল তার ঝলমলে পোশাকের ব্যাপারে বলতেন, ‘আমার সম্ভ্রান্ত হওয়ার দরকার নেই। আমার তো মানুষকে বিভ্রান্ত করবার কথা!’
সানি-নিনির বাবা
নজরুল সান সান ইয়াত সেন ও ভøাদিমির লেনিনের ভক্ত ছিলেন। তাদের নাম অনুসারেই তার দুই সন্তানের নাম রেখেছিলেন সানি ও নিনি। তাদের নিয়ে ছড়াও বলতেন তিনি। কখনো বলতেন, ‘সানি-নিনি দুই ভাই/ ব্যাঙ মারে ঠুই ঠাঁই।’ আবার কখন বলতেন, ‘তোমার সানি যুদ্ধে যাবে মুখটি করে চাঁদপানা/ কোল-ন্যাওটা তোমার নিনি বোমার ভয়ে আধখানা।’ বাবার কণ্ঠে এমন অদ্ভুত ছড়া শুনে সানি-নিনি হেসে কুটিকুটি হতো। আর নজরুল খুশি হতেন তাদের হাসি দেখে।
তেঁতুলের দই
একবার নজরুল গেছেন এক দাওয়াতে। খাওয়া-দাওয়ার পর সবাইকে দই দেওয়া হলো। কিন্তু সে দই আবার বেজায় টক হয়ে গিয়েছিল। সেই দই খেয়ে নজরুল যিনি মেহমানদারি করছিলেন তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি কি এই দই তেতুঁল গাছ থেকে পেড়ে নিয়ে এলে নাকি?’
যদি লেখক হতে চান
কাজী নজরুল ইসলাম প্রচুর পান ও চা খেতেন। লিখতে বসার আগে প্রচুর চা ও থালা ভর্তি পান নিয়ে বসতেন। চা খেয়ে পান খেতেন, পান খেয়ে আবার চা। এভাবেই চলত। নজরুল বলতেন, ‘লেখক যদি হতে চান/, লাখ পেয়ালা চা খান!’
গ্রন্থনা : শাহ জামান