হালান্ড-শেরকির জোড়া গোলে অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ফিরল সিটি

শৈল্পিক ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এক মোহময় রূপ নিয়ে হাজির হলো ম্যানচেস্টার সিটি। সেলহার্স্ট পার্কে এদিন একে অপরের পরিপূরক হয়ে দ্যুতি ছড়ালেন আর্লিং হালান্ড ও রিয়ান শেরকি। নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন হালান্ডের ধারালো আক্রমণ আর ফরাসি জাদুকর শেরকির অভাবনীয় সৃষ্টিশীলতা, দুজনেরই জোড়া গোলের দাপটে প্রতিপক্ষ ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে স্রেফ উড়িয়ে দিল সিটিজেনরা।

প্রিমিয়ার লিগের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কোচ এনজো মারেস্কার শিষ্যরা আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্সের দুর্দান্ত সমন্বয়ে তারা কতটা অপ্রতিরোধ্য। 

ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিক ক্রিস্টাল প্যালেসক সিটিজেনদের চমকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ১৭ মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় তারা। অ্যান্টোনি সেমেনওর নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে সফরকারীরা।

বিরতির পর সিটির আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ফিল ফোডেনের পাস থেকে বল পেয়ে জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে প্যালেসের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন শেরকি। যদিও এর কিছু পরই ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক গোলকিপার জানলুইজি দোন্নারুমার গায়ে লেগে জালে জড়ালে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল প্যালেস।

তবে স্বস্তি স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ৫৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শেরকির জোরালো শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ালে তিনি তুলে নেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফোডেনের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড।

ম্যাচ শেষে শেরকির পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিটির কোচ এনজো মারেস্কা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার পারফরম্যান্স আমার কাছে দারুণ লেগেছে, কেবল দুটি গোলের জন্য নয়, বরং বলের বাইরে সে যেভাবে পরিশ্রম করেছে সেজন্যও। তাকে প্রেস করতে হবে। তার খেলাটি ছিল নিখুঁত। সে ফুটবলকে ভালোবাসে। আমরা জানি সে কতটা ভালো এবং তার মধ্যে কী মানের গুণাবলী রয়েছে।’ 

এদিকে, নিজের খেলা নিয়ে ফরাসি উইঙ্গার শেরকি সংবাদমাধ্যমে এক মজার মন্তব্য করে বলেন, প্রথমার্ধে তার পারফরম্যান্স ‘খুবই বাজে’ ছিল। তবে মাঠের খেলায় তার সেই আত্মসমাালোচনা ভুল প্রমাণ করে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল ও দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে দলের জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন এই তরুণ তারকা।

এবারের মৌসুমটা সিটিজেনদের শুরু হয়েছিল বড় ধাক্কা দিয়ে। কমিউনিটি শিল্ডে আর্সেনালের কাছে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় তারা। এরপর প্রিমিয়ার লিগ জয়ে শুরু হলেও বোর্নমাউথের বিপক্ষে সেই ম্যাচে হালান্ডরা ছিলেন না চেনা ফর্মে। তবে দাপুটে এই জয় দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ফিরল সিটি।