পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৯ জন আটক, গ্রামে আতঙ্ক

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. সবুজ প্রামাণিক (২৯), মো. জাহের আলী প্রামাণিক (৪৫), মো. হাসান আলী (৫৭), মো. রবিউল করিম (৪০), মো. আশিক আহমেদ (২২), মো. নাঈম আলী (১৯), মো. রেজাউল করিম (২৮), মো. আল-আমিন (২৯) ও মো. কামরুল ইসলাম (২১)।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দুই শিশু নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

পরে আরেক শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন পুলিশ সদস্যদের ঘিরে গালিগালাজ এবং সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করে পুলিশ।

রাতে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এক পুলিশ সদস্য মাথায় আঘাত পান। অন্যদের বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হামলা থেকে বাঁচতে পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে পাশের একটি দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন। পরে গুরুদাসপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত এক পুলিশ সদস্যকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পরে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর শ্যামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ধরপাকড়ের আশঙ্কায় অনেক পুরুষ বাড়িতে থাকছেন না। কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থান করছেন। ফলে অনেক বাড়িতে এখন নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদেরই বেশি দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধ এবং পরে হামলার ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।

তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরই আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।