অপেক্ষার ক্লান্ত চোখে স্বজন ফিরে পাওয়ার আশা

‘এই শহরের অলিগলিতে, নদী-নালায় ও হাসপাতালের মর্গে তোমাদের আমরা বহুবার খুঁজেছি। কিন্তু পাইনি। আমাদের কোনো দোষ ছিল না, তবু আমাদের ক্ষমা করে দিও।’ শেষ এ কথাটি বলে চোখ মুছতে মুছতে পাশের ব্যক্তির হাতে মাইক্রোফোনটি তুলে দেন নাছিমা বেগম। এরপরও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি।

নাছিমা বেগম যুবদল নেতা মিজানুর রহমান জমাদ্দারের স্ত্রী। ২০১০ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর কুড়িল থেকে মিজানুর রহমান গুমের শিকার হন। পরের বছর ছোট ভাই মিজান শিকদার, দেবর মোরশেদ জমাদ্দার, বড় ভাইয়ের ছেলে সুমন শিকদারকেও গুম করা হয়। পরিবারের চারজন নিখোঁজ হওয়ার পর বহুবার বহু জায়গায় খুঁজেও সন্ধান মেলেনি।

রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুর খেলায় সব যেন মøান হয়ে গেছে। থানা, জেলখানা, হাসপাতাল বা মর্গ কোথাও সন্ধান না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরে উচ্চ আদালত, মানববন্ধন, সভা-সেমিনার...। একদিন বা দুদিন কিংবা কয়েক মাস নয়, এক এক করে এভাবেই কেটে যাচ্ছে বছরের পর যুগও।

স্বামীকে খোঁজার ১৬ বছরের যে অভিজ্ঞতা, কান্নার জন্য তার সিঁকিভাগও শোনাতে পারেননি নাছিমা বেগম। একই সঙ্গে ভাই, ভাইয়ের ছেলে এবং দেবরকেও গুম করে ফেলে তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী শাসক।

তবে এই গল্প কোনো নির্দিষ্ট এক নাছিমার পরিবারের নয়, গুম হওয়া প্রত্যেকটি পরিবারের পরিচিত ঠিকানা এসব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গুম হওয়া অনেকেই ফিরে এসেছেন। তখন সবাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। এখানে ওখানে ছোটাছুটি করে প্রিয় মানুষের সন্ধান না পেয়ে এখনো সন্ধান দাবি করে যাচ্ছেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর আয়নাঘর নামক গুমঘর থেকে যারা বেরিয়ে এসেছেন, তাদের দুর্বিষহ বর্ণনায় যে কারও গা শিউরে উঠবে। কিন্তু তাদের পরিবারের কষ্টগুলো আরও নির্মম। অনেক মা এখনো কাঁদতে কাঁদতে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। বাড়িতে কেউ এলে এখনো দৌড়ে যায় ছোটবোন এই বুঝি ভাই এলো। কিন্তু তারা ফিরে না, না ফেরার দেশে চলে গেছে কি না তাও জানে না। সন্তানের কবরে এক মুঠো মাটি দিতে না পারার আক্ষেপে দিন গুনছেন অনেক বৃদ্ধ বাবা।

গুম হওয়া পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে জাতীয় প্রেস ক্লাব। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়া হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ‘হিউম্যান রাইট সাপোর্ট সোসাইটি’ (এইচআরএসএস) এক আলোচনাসভার আয়োজন করে। সভায় গুমের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। তবে তাদের কেউ কান্না ছাড়া কথা বলতে পারেননি। এই কান্নার শেষ কোথায়, তা কেউ বলতে পারেন না।

কেননা, এ আসরে বক্তা আর শ্রোতার আসনে বসা সবার গল্প একই। কেউ এসেছেন স্বামীর জন্য এক যুগ অপেক্ষার গল্প শোনাতে, কেউ এসেছেন ভাই হারানো শোকের আর্তি জানাতে; আবার কেউ এসেছেন সন্তানের খোঁজ পেতে।

নাছিমা বেগম জানান, তার স্বামী মিজানুর রহমান জমাদ্দার ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার যুবদলের নেতা ছিলেন। ইউপি নির্বাচন করার জন্য পোস্টার-ব্যানার করছিলেন। ছোট ভাই মিজান শিকদার, দেবর মোরশেদ জমাদ্দার, বড় ভাইয়ের ছেলে সুমন শিকদারও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের পদ-পদবিতে ছিল। শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ২০১০ সালে মিজানুরকে, আর ২০১১ সালে বাকি তিনজনকে র‌্যাব গুম করে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছি। ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে ঘুরছে। আমার ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘ছোট ভাই গুম হওয়ার সময় ওর ছেলের বয়স ছিল দুই বছর। বাবা ডাক শেখার পর আমার ভাইপো বাবা ডাকতে পারেনি। আমাকেই বাবা বাবা ডাকত। দুই ছেলের চিন্তায় শ্বশুর স্ট্রোক করেছেন। আশা করেছিলাম, এ সরকার বিচার করবে। কিন্তু বিচারের নামে ধান্দাবাজি চলছে। বলে, এদিকে যান, ওদিক যান। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গেছি। সেখানে নিখোঁজদের মৃত্যুসনদ চায়। আমার স্বজনরা কোথায় আছে, কোথায় তাদের কবর দেওয়া হয়েছে, সেটিই এত বছরে জানতে পারলাম না। সেখানে মৃত্যুসনদ কোথায় পাব? যারা গুম করেছে, অন্তত তাদের বিচারটা দেখে যেতে চাই।’

২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় হাফেজ জাকির হোসেনকে। দীর্ঘ ১৩ বছর জাকিরকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার পরিবার। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

জাকির হোসেনের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পর দিন টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখি, মোহাম্মদপুর থেকে আদাবর থানা শিবিরের সহসভাপতি জাকির হোসেন গ্রেপ্তার। আমরা ভেবেছিলাম, গ্রেপ্তার যেহেতু হয়েছে হয়তো আদালতে তোলা হবে। আমরা গ্রাম থেকে ছুটে আসি এবং আদালতে যাই। কিন্তু জাকিরকে আদালতে তোলা হয়নি। থানায় মামলা-জিডি নেয়নি। এমন কোনো জায়গা বাকি নেই যে, ভাইকে খুঁজিনি। বড় ভাইসহ ঢাকার অলিগলিতে, হাসপাতাল মর্গে সব জায়গায় খুঁজেছি। আমার ভাই অপরাধ করে থাকলে বিচার করা হোক, প্রয়োজনে ফাঁসি দেওয়া হোক, তা-ও মেনে নেব। কিন্তু কেন তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হলো?’ কাঁদতে কাঁদতে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মায়ের রুমটা আমার রুমের পাশে। রাত ২-৩টার সময় মায়ের কান্নার শব্দ কানে আসে। ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে আমার মা পাথর হয়ে গেছেন। তখন মায়ের কষ্ট বুঝতে পারিনি। আমার সন্তান হওয়ার পর আমার মায়ের কষ্টটা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। মা এখনো জাকিরের আশায় পথপানে চেয়ে থাকেন। অচেনা নম্বর থেকে কল এলে বড় আশা নিয়ে রিসিভ করি, না জানি আমার ভাই কল করেছে।’ কিন্তু... শেষ এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জিয়াউর এবং মাইক্রোফানটি পাশের ব্যক্তির হাতে তুলে দেন।

দিন গুনে গুনে বছর হয়ে গেল ১৪টা। হারানো সন্তানের প্রতীক্ষায় এখনো থামেনি মায়ের আকুতি, বাবার হাহাকার।

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গুমের শিকার হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের একজন ওয়ালীউল্লাহ, অন্যজন আল-মুকাদ্দাস। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে এসব প্রশ্নের জবাব আজও কেউ দিতে পারেনি। তাদের ফিরে পাওয়ার আশায় আজও ছটফট করছেন স্বজনরা। সেদিন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আসার পথে সাভারের নবীনগর এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে র‌্যাব-৪ পরিচয়ে তাদের তুলে নেওয়া হয়। তারা দুজন বন্ধু এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন।

আল মুকাদ্দাসের চাচা আব্দুল হাই বলেন, মুকাদ্দাসের বাবা প্রতিনিয়ত তার ছেলেকে খুঁজে চলে। বাবার অশ্রুসিক্ত চোখ এখনো আশার সুতো ধরে রেখেছে। তাদের বিশ্বাস একদিন ছেলে ঠিকই ফিরে আসবে। মুকাদ্দাস গুম হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সংস্থার কাছে ছুটে গেছি। কিন্তু কোনো সংস্থা ওর সন্ধান দিতে পারেনি। ও আদৌ জীবিত আছে, নাকি মেরে ফেলা হয়েছে, মেরে ফেললে লাশ কোথায় চাপা দেওয়া হয়েছে এর কিছুই জানি না। আমরা মানসিকভাবে আর টিকে থাকতে পারছি না। যারা গুমের শিকার হয়েছেন, দায়িত্ব নিয়ে সরকারকে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে এবং আর যেন কেউ গুমের শিকার না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

২০১৮ সালের ৪ আগস্ট জনসমক্ষে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার হোসাইন আলী আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের জামায়াত নেতা ইদ্রিস আলী পান্নাকে। মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ব্যাগসহ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। ঘটনার আট দিন পর পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে পাওয়া যায় ইদ্রিস আলীর ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ।

ইদ্রিস আলীর ছেলে মামুনুর রশিদ বলেন, বাবার লাশ উদ্ধারের সময় শরীর থেকে চামড়া ছিলা ও ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় ছিল। অথচ পুলিশ এসে আমাদের কাছ থেকে লিখিত নেয়, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবা মারা গেছেন। শুধু রাজনীতি করার কারণে বাবাকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। সব জায়গায় গেছি, কোথাও বিচার পাইনি। পরে আমরা সবাই গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি। এখনো ভয়ে ভয়ে গ্রামে যাই। দুঃখের বিষয় হলো যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।

শুধু সেই সময়ে নয়; সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ চলতি বছরের ১০ এপ্রিল শত শত মানুষের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে (৩০) তুলে নিয়ে যায় কোস্ট গার্ড। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ সুন্দরবনে মাছধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ঘটনার দিন প্রথমে সিভিল ড্রেসে আসা দুজন কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ে তাকে স্থানীয় কোস্ট গার্ডের পন্টুনে নিয়ে যান। এরপর কোস্ট গার্ড লেখা একটি বোর্ড আসে, তাতে করে মিরাজকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিকার না পেয়ে তার বাবা হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত মিরাজকে হাজির করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো মিরাজের সন্ধান দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মিরাজের বোন লিজা ইসলাম জানান, তার ভাইকে প্রথমে কোস্ট গার্ডের পন্টুনে নেওয়া হয়। সেখানে তার ছবি তোলে। এরপর কোস্ট গার্ডের একটি বোট আসে, তাতে পোশাক পরিহিত কোস্ট গার্ডের আরও সদস্য ছিলেন। নেমপ্লেটে রবিন নামে একজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তারা মিরাজকে বোটে তুলতে চাইলে মিরাজ যেতে চাচ্ছিল না। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। তখন শত শত মানুষ বিষয়টি দেখেছেন। এরপর আমার ভাবি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে কোস্ট গার্ডের ওখানকার এক কর্মকর্তাকে কল করে কাকুতি-মিনতি করতে থাকেন। তখন তারাও স্বীকার যান এবং জানায়, মিরাজ অপরাধ না করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পর দিন আবারও কল দিয়ে কান্না করলে মিরাজের সঙ্গে দেখা করিয়েও দিতে চেয়েছিল কোস্ট গার্ড। কিন্তু দেখা না করিয়ে উল্টো বলে, মিরাজকে নিয়ে তারা অভিযানে যাবে। এভাবে করতে করতে তারা একটা পর্যায়ে মিরাজকে আটকের বিষয় অস্বীকার করে। এ নিয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করায় কোস্ট গার্ড মারধর করে। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে কোস্ট গার্ডের বোটে হামলা চালায়। কোস্ট গার্ড এ ঘটনায় মামলা করে। এতে পরিবারের সবাইকে আসামি করে এবং ২৭ দিন জেলও খেটেছি। ভাবি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ভয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি, আদালত আমার ভাইকে হাজির করতে নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু চার মাস হয়ে গেলেও ভাইয়ের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমার ভাইকে ফেরত দেওয়া হোক। একটা মাত্র ভাতিজা, ও যাতে এতিম না হয়। আমরা মিরাজের সন্ধান চাই এবং জীবিত অবস্থায় চাই।

আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন গুমের শিকার, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুমসংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, সাবেক গুমসংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।

তারা মানবাধিকার ও গুমসংক্রান্ত দুই বিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট বাহিনীকে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত না করে বিল দুটি পাস করা হলে গুমের ঘটনায় বিচার ও জবাবদিহির পথ আরও কঠিন হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সুবিধার্থে আইনগুলো সেভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীই তো এই জিনিসগুলো করে। এবং যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাদের দায়িত্ব এই নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করা। তারা যদি নিয়ন্ত্রণ না করে নিরাপত্তা বাহিনীর ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করেন, তাহলে তারা আর জনপ্রতিনিধি থাকলেন না। শুধু যে মানবাধিকার কমিশন ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, আদালতও ব্যর্থ হয়েছে। কেননা এতদিন কেউ আদালতের কাছেই যেতে পারেনি।