বরাদ্দ ছাড়াই বাস করছেন দেড় বছর

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

সৈয়দপুর রেল কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বরাদ্দ ছাড়াই সরকারি বাসা দখলের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, গত বছরের ১৬ মার্চ ডিএসের দায়িত্ব নেওয়ার পর নুর মোহাম্মদ কারখানার (ইজিপি) প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর ইউসুফ আলীকে দিয়ে শহরের অফিসার্স কলোনির এস-২৩১ নম্বর বাসাটি বরাদ্দ ছাড়াই ১৭ মাস দখলে রেখেছেন।

সৈয়দপুর রেল কারখানার সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলে জানান, কারখানার ডিএস নুর মোহাম্মদের জন্য বাসা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আরেকটি বাসা একজন শ্রমিক দিয়ে দেড় বছর ধরে দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। গত বুধবার এ ব্যাপারে কথা হয় অস্থায়ী শ্রমিক ইউসুফ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, অফিসার্স কলোনির বাসাটি কারখানার ডিএস স্যারের। স্যার আমাকে এ বাসার কেয়াটেকার হিসেবে রেখেছেন। আমি কারখানার ইজিপি প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর। প্রায় দেড় বছর ধরে আছি।

রেলওয়ের সূত্র জানা গেছে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কোয়ার্টারে ৩১টি বাংলো, ১৩৯টি সাব-বাংলো, দুই কক্ষবিশিষ্ট বাসা ৭১১টি এবং এক কক্ষবিশিষ্ট ১৬০৭টি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে বসবাসের উপযোগী এক হাজার ৪৬টি বাসা খালি পড়ে থাকে। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় রেলওয়ের গড়ে ওঠা দুই হাজার ৪২৮টি বাসার মধ্যে এক হাজার ৩২৫টি বেদখল হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে এসব বাসা যার নামে বরাদ্দ সে থাকে না, থাকেন অন্যজন।

জানা যায়, শহরের অফিসার্স কলোনির এস-২৩১ বাংলোটি ডিএস নুর মোহাম্মদের কেয়ারটেকার ইউসুফ আলীকে দেওয়া আছে। এটা ডিএসের ব্যাকআপ বাসা। কারণ তার স্ত্রী স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। এ ছাড়া বাংলো নং এল-২৬ ওয়েম্যান সবুজ (হিলি), বাংলো নং এল-১৩২ (এ) মশিউর রহমান ইলেঃ খালাসী নামে বরাদ্দ হলেও থাকেন ডিজেল শপের ইনচার্জ। বাংলো নং ই-৮৫ কাজলী রানী (সুইপার) রেলওয়ে হাসপাতালের কর্মচারীর নামে বরাদ্দ থাকেন ল্যাব টেকনিশিয়ান (কারখানা)। বাংলো নং-৫৫৪(এ) অ্যাকাউন্সের অডিটর লিখন মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত, থাকেন ডিএফএ অ্যাকাউন্স সৈয়দপুর। লিখনকে দেওয়া আছে আতিয়ার কলোনির দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট বাসা ১৪৫(ই), যার কোনো ভাড়া কাটা হয় না। আইডব্লিউ বাসার পাশে পরিদর্শক বিশ্রামাগার সেটা ডিজেল শপের এক স্টাফকে কেয়ারটেকার দেওয়া, কোনো ভাড়া কাটা হয় না। বাংলো এল ২৫(এ) নিরাপত্তা প্রহরী আবুল কালাম আজাদের নামে, থাকেন স্টোরের ইন্সপেক্টর বাবুল। উপসহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলওয়ের কোয়ার্টার বেদখলে সহায়তার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নুর মোহাম্মদ বলেন, আমার নামে যে বাসা বরাদ্দ আছে, আমি সেটিতেই থাকি। বাসা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অন্য বাসা কেন নেব? আমি কোনো বাসা দখল করিনি, মিথ্যা ও বানোয়াট। আর ওই ছেলে কেন আমার নাম বলে বাসা দখল করে আছে, সেটি খতিয়ে দেখব এবং বাসাটি সিলগালা করা হবে বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত