নাটকীয় হারে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় বাংলাদেশ এইচপির

ছোট পুঁজি নিয়ে জয়ের সুবাস ছড়ানো ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মুঠো গলে বেরিয়ে গেল অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায়। জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রতিপক্ষের প্রয়োজন ছিল সাকল্যে মাত্র এক রান, আর বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের দরকার ছিল অলৌকিক কিছু। প্রথম বলে রান আউটের পর টানা দুই ডট বল ফিরিয়ে শামীম হোসেন এনেছিলেন সুপার ওভারের তীব্র রোমাঞ্চের সম্ভাবনার। কিন্তু চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সব সমীকরণ মিলিয়ে দেন ব্যাটার লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড।

রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে দুই বল বাকি থাকতেই ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির কাছে হার মেনে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।

ম্যাচের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতার চড়া মাশুলে। মোটে ১০১ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নামতে দিয়ে বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো ছিল কঠিন। তবে এই ছোট্ট পুঁজিকেই পাহারায় পরিণত করতে জানপ্রাণ লড়িয়ে দেন বোলিং আক্রমণভাগের রুবেল, শামীম ও রিপনরা। উইকেটের পতন ঘটিয়ে ম্যাচটা রোমাঞ্চের শেষ সীমানায় নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অল্প রানের পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ের অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখালেও শেষ চারের গণ্ডি পেরিয়ে ফাইনালে পা রাখা হলো না বাংলাদেশের।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব এটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম পাঁচ ওভারেই রান রেট ১০-এর কাছাকাছি রেখে ২ উইকেটে ৪৯ রান তুলেছিল জিসান-আরিফুলরা। তবে বিপর্যয়ের শুরু পাওয়ারপ্লে শেষের প্রথম বল থেকেই, নিয়মিতে বিরতিতে সাজঘরের রাস্তা মাপেন একে একে বাকি আট ব্যাটার। পাওয়ারপ্লের শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল ২ উইকেটে ৫৬ রান সেখানে থেকে ১৭ ওভার ১ বলে ১০১ রানে অলআউট। সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে জিসানের ব্যাটে।

মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১১ ওভারে কেবল ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে ফেলে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমি। তবে এরপরেই শুরু নাটকীয় মোড়ের। রুবেল-শামীমদের স্পিন ঘূর্ণিতে বাকি ২৫ রান যোগেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ভিক্টোরিয়ানরা। সম্ভাবনা জেগেছিল অভাবনীয় এক জয়ের। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জয়ের পাল্লা হেলে গেল ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির দিকেই। আগের ম্যাচের ফাইফার তোলা রুবেল এই ম্যাচেও নেন ৩ উইকেট আর শামীম নেন ২টি। তবে বোলারদের এমন লড়াইয়ে পর ব্যাটারদের হতাশায় শেষ চার থেকেই বিদায় নিতে হলো ইফরান শুক্কুরের দলকে।