ইউরোপিয়ান ফুটবলে টাকা দিয়ে স্কোয়াড বদলানো যায়, কিন্তু রাতারাতি মানসিকতা কি কেনা যায়? কথাটি আরও একবার হাড়ে হাড়ে টের পেল টটেনহ্যাম হটস্পার। গত দুই মৌসুমে লিগে ১৭তম হওয়া লন্ডনের ক্লাবটি দল পুনর্গঠনে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ওড়ানোর পর সমর্থকদের মনে আশার প্রদীপ জ্বেলেছিল।
কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন কোথায়? নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ গোলের হার কেবল রবার্তো ডি জেরবির দলের টানা দ্বিতীয় পরাজয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং গত দুই মৌসুমের সেই চিরচেনা ভঙ্গুরতা ও রক্ষণাত্মক ব্যর্থতাকেও ফের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে হাজার হাজার খালি আসন আর ঘরের মাঠে শেষ ৩৯ লিগ ম্যাচে ২১তম পরাজয়ের লজ্জায় ক্লাবটির নতুন কোচ ডি জেরবির মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গতকাল রাতের ম্যাচের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত অবশ্য অন্য এক টটেনহ্যামকে দেখা গিয়েছিল। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে বাজে শুরুর পর নিউক্যাসেলের বিরুদ্ধে কিছুটা তীক্ষ্ণ ও গোছানো ফুটবল খেলেছিল স্বাগতিকরা। নতুন রিক্রুটদের অনেকেই মাঠে ছিলেন, মাঝপথে মোহাম্মদ কুদুস দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে সমর্থকদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও গোলের খরা কাটেনি। উল্টো ম্যাচের ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার নিখুঁত শটে গোল হজম করার পর ১০ মিনিট বাদে ইয়োয়ান উইসার দুর্দান্ত এক ওভারহেড কিকে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্পার্সের রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ২-০ স্কোরলাইনের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে লন্ডনের দলটি।
অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের প্রথম দুই লিগ ম্যাচে কোনো গোল না করেই টানা দুই হার দেখল দলটি। ক্লাবের ইতিহাসে এমন নজির এর আগে কেবল ১৯২৭-৪৮ (দ্বিতীয় সারির লিগে) ও ১৯৭৪-৭৫ (শীর্ষ লিগে) মৌসুমে দেখা গিয়েছিল। ৫২ বছর সেই লজ্জার শুরু এলো ২০২৬-২৭ মৌসুমেও।
নিউক্যাসেল অবশ্য চলতি গ্রীষ্মে সান্দ্রো টোনালি, অ্যান্থনি গর্ডন ও ব্রুনো গিমারেসেরর মতো তারকাদের হারানোর পরও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। নতুন কোচ মাটিয়াস জেইসলের অধীনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা স্পার্সকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হতাশ ডি জেরবি অবশ্য নিজের দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ওপর অন্ধ বিশ্বাসের কথা জানান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্যানদের জন্য এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। টানা দুই হারের পর হয়তো কেউ কেউ ভাবতে পারে যে এটি সেই একই ইতিহাস, আগের দুই মৌসুমের মতোই পুনরাবৃত্তি। কিন্তু আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি তেমন নয়। টানা দুই হারের কারণে আমি আমার মতামত বদলাতে পারি না। আমার খেলোয়াড়দের যোগ্যতার ওপর আমার প্রবল আত্মবিশ্বাস আছে।’ এমনকি দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে ডি জেরবি আরও যোগ করেন, ‘আমার সাথে বা অন্য কোনো কোচের অধীনেই এই স্কোয়াড তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করবে।’
প্রিমিয়ার লিগে এই মুহূর্তে টটেনহ্যামের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে। দুই ম্যাচে কোনো গোল না করে উল্টো পাঁচ-পাঁচটা হজম করেছে তারা। এদিকে টানা দুই জয়ে এই মুহূর্তে নিউক্যাসল আছে তালিকার তিনে।
মেসির দুই ফি-কিকসহ 'পোকার': ৭-১ গোলের বিধ্বংসী জয় মায়ামির