যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সময় মতো উন্নয়ন কাযক্রম সম্পন্ন করা যায়নি। ড্রেন ও রাস্তার নির্মাণের কাজে ধীর গতি লক্ষনীয়। পানি নিষ্কাশন, নেটওয়ার্কের নকশাগত ত্রুটিসহ সমতলের নিয়ম ছাড়াই আবাসিক এলাকায় ড্রেনবিহীন রাস্তা নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার বাজার ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বাসা-বাড়িতে নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে এলজিইডি-এর অধীনে আইইউজিআইপি প্রকল্পের ১ নম্বর প্যাকেজের আওতায় মনিরামপুর পৌরসভায় রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ২৬ জুলাই ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। অথচ ড্রেনের অভাবে পৌর এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। বাড়ির মালিকরা ব্যক্তি উদ্যোগে নামমাত্র ড্রেন নির্মাণ করেন পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরে যারা ড্রেন নির্মাণ করেছেন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যে সব ড্রেণ নির্মাণ করেছেন সে সব ড্রেনের বাস্তব ভ‚মির উচ্চতার সঙ্গে গভীরতার সামঞ্জস্যতার পার্থক্য রয়েছে। প্রকৌশলী ডিজাইনে ড্রেনের এমন ত্রুটির কারণে ড্রেনের পানি সরছে না।
চলতি বর্ষা মৌসুমে ড্রেনবিহীন ও ড্রেনগুলোর কাজ অর্ধেক করে ফেলে রাখার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার পানি উপচে ড্রেনের নোংরা পানি ঘরে ঢুকছে। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এক নম্বর ওয়ার্ডের তাপস কুমার বলেন, নিজেদের খরচে ড্রেন করে নদীতে জল নামানো হয়। তিন নম্বর ওয়ার্ডের অশীষ চন্দ্র বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগেই বাড়ি নির্মাণের সময় এখানে নিজেদের খরচে ৫ ইঞ্চি, থেকে ৮ ইঞ্চি ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল। বৃষ্টির সময় বাজারের নোংরা পানি মানুষের উঠান এবং ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে। ঘরের ভেতরের জলাবদ্ধতা দ‚র করতে কাউকে ছোট ওয়াটার পাম্প দিয়ে পানি সরাতে হচ্ছে।
সাত নম্বর ওয়ের্ডের রশীদ শিহাব বলেন, বৃষ্টি মৌসুমের পূর্বে বরাদ্দ ড্রেনগুলোর কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি না হওয়ায় পৌরবাসী সুফলের চেয়ে পূর্বের তুলনায় বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে ড্রেনের কাজগুলোতে বেজ ঢালাই এবং রড বাঁধার কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। যেটা পৌর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে দেখভাল করছেন না।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিচ্ছিন্ন লোকেশনের ড্রেন ম‚ল আউটলেট বা নদীর সাথে সংযুক্ত না করায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এ বিষয় জানতে চাইলে পৌর প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার বলেন, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ চলমান আছে। অর্থ বরাদ্দ ও সময়মত কাজ সমপন্ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে একটি টীম পরিদর্শন করে গিয়েছেন, ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান আছে।