কক্সবাজার সৈকতে সড়ক নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুই দফায় বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতরে নির্মাণকাজ শুরু করে।’ 
 

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ আট সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত আদালত অবমাননার অভিযোগ ও পৃথক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভুঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 

আদালত অবমাননার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলার) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। 

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত রবিবার আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। গত সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। অন্যদিকে এ নির্মাণকাজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বেলা। 

রাষ্ট্রপক্ষের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নির্মাণকাজের ওপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা ও নির্মাণকাজের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। পাশাপাশি আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে হাইকোর্ট।  

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ নিয়ে ১৬ বছর আগে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলের শুনানি শেষে ২০১১ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণকৃত সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুই দফায় বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতরে নির্মাণকাজ শুরু করে।’ 
 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত