শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এ আদেশ দেন।
পলাতক আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির পত্রিকা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও হদিশ পায়নি। এ কারণে পলাতকদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে বৃহস্পতিবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রূপাকে এদিন হাজির করা হয়নি।
প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ হলে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে। শাপলা চত্বরের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সাক্ষীর জবানবন্দি, জব্দ তালিকা ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করেই প্রসিকিউশন মামলাটি আমলে নেওয়ার আবেদন করেছে। তার দাবি, আইন অনুযায়ী এসব নথি দাখিলের পর শুনানি হওয়া প্রয়োজন ছিল।
অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, মামলাটি বিচারের প্রস্তুতি পর্যায়ে গেলে আসামিপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক নথিপত্র পাওয়ার অধিকার রাখে।